corona virus btn
corona virus btn
Loading

স্বামী, সন্তানের জন্য আড়ালে চোখের জল!‌ দাঁতে দাঁত চেপে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নার্স নিবেদিতা

স্বামী, সন্তানের জন্য আড়ালে চোখের জল!‌ দাঁতে দাঁত চেপে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নার্স নিবেদিতা
Representative image

এই নিবেদিতার মতো মহিলারা এখন পশ্চিমবঙ্গে কেন, বিশ্বের সর্বত্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন

  • Share this:

#‌কলকাতা:‌ সিস্টার নিবেদিতা। এই নিবেদিতা ২০২০–এর। এই নিবেদিতা একাধারে মেয়ে, স্ত্রী, বন্ধু, মা, নার্স। সেবাই যার ধর্ম। পৃথিবীর অসুখ যখন গভীর, তখন এই নিবেদিতার হাতের জিয়ন কাঠি ছুঁয়ে যায় কাঁপতে থাকা রোগীর কপাল। চারপাশ যখন ভীষণ সংকটে, তখন এই নিবেদিতা বটগাছের মতো হয়ে ওঠেন , অথবা দেখা দেন দশভূজার মতো। এই এখন যেমন!‌ ওষুধের সময় ওষুধ, অক্সিজেন শেষ হচ্ছে কিনা দেখা, স্যালাইনের বোতল পরিবর্তন, সব ঘড়ির কাঁটা ধরে করে যাচ্ছেন নিবেদিতারা। পার্ক সার্কাস ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ চিত্তরঞ্জন হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের সিস্টার ইনচার্জ নিবেদিতা সিংহ রায় সেই দশভূজাদের একজন।

গত দু’‌মাস হল স্বামী, পুত্রের কাছ ছাড়া। দু’‌মাস ধরে একবারের জন্যও তাঁদের দেখা পাননি। পাছে বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে কাজে সমস্যা হয়, তার জন্য মোবাইলের ভিডিও কলেও কথা বলা বারণ। প্রতিদিন এক বুক কান্না চেপেই এম বাইপাসের পাশের ভিআইপি নগরের ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে সোজা পার্ক সার্কাস ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ। এসেই কোন কিছু না ভেবে, কোনোদিকে না তাকিয়ে সোজা কোভিড ওয়ার্ড। সেখানে তখন যুদ্ধকালীন তৎপরতা। করোনা আক্রান্ত সন্দেহে রোগীরা নার্সের হাতের ছোঁয়ার অপেক্ষায়। ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে রোগীরা যাঁদের করোনা পজিটিভ হলে অন্য করোনা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এখনও পর্যন্ত এই হাসপাতালে ছ’‌জন করোনা পজিটিভ আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। ফলে ঝুঁকি লেগেই থাকে। পিপিই (পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট), স্যানিটাইজার যতই ব্যবহার করা হোক না কেন তার পরেও অনেক চিকিৎসক নার্স স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। তবুও সব ভয়কে দূরে সরিয়ে রেখে প্রতিদিন দাঁতে দাঁত চেপে রোগীদের সুস্থ করে তোলার লড়াইয়ে সামিল নিবেদিতা সিংহ রায়।

পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরে স্বামী আর সন্তান। দু’‌মাস ধরে দেখা নেই। লকডাউনের আগে থেকেই হাসপাতালই হয়ে উঠেছে ঘরবাড়ি। হাসপাতাল থেকে বাইপাসের ফ্ল্যাট, আবার হাসপাতাল। এর বাইরে স্বামী সন্তানের জন্য অলক্ষ্যে চোখের জল। তবুও ভয় পেতে নারাজ নিবেদিতা। বাকিদের জন্য তার বার্তা, 'ভয় পেলে ভয় জাঁকিয়ে বসে। ভয়কে জয় করে আমাদের এগোতে হবে। ভয় পেলে তো আর করোনা পালিয়ে যাবে না। ফলে প্রত্যেককে তার নিজের কাজ করে যেতে হবে। আর আমরা যদি এই কাজ না করি তবে তো ঘোর সংকট। এই অসহায় রোগীদের পাশে কে দাঁড়াবে!'

ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের ব্যাটন এখন এই নিবেদিতাদেরই হাতে। এই নিবেদিতার মতো মহিলারা এখন পশ্চিমবঙ্গে কেন, বিশ্বের সর্বত্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। গলা বুজে এলেও, চোখ কান্নায় ভিজে গেলেও পরিবারকে দূরে সরিয়ে রোগীদের সেবাকেই সবার আগে রাখেন তিনি। রোজ নিবেদিতার স্নেহের জিয়ন কাঠি পৌঁছে যায় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের করোনা ওয়ার্ডে।

ABHIJIT CHANDA

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: May 15, 2020, 1:25 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर