Himachal Covid-19 : 'হোটেলে নয়, এরপর হাসপালাতে জায়গা হবে না'! হিমাচলে পর্যটকদের ভিড়ে কটাক্ষ নেটপাড়ায়

বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়

সম্প্রতি সেই পর্যটকদের (Tourist in Himachal Pradesh) ভিড়ের ছবি ভাইরাল হতেই জোরালো প্রতিক্রিয়া শোনা গেল নেট পাড়ায়। সমালোচনার ঝড় উঠেছে মানুষের ভয় না পেয়ে আবারও ভিড়ে গা ভাসানোর প্রবণতায়।

  • Share this:

    #হিমাচল প্রদেশ : একে দিল্লিতে চলছে প্রবল দাবদাহ। তার ওপর দেশে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ (Coronavirus Second Wave)। ফলে আবার আগল আলগা করেছে মানুষ। ঘরে থাকতে আর চাইছে না তাঁরা। দেশের নানা প্রান্তের বাসিন্দাদের গন্তব্য এখন হিমাচল প্রদেশ (Himachal Pradesh)। গরম থেকে বাঁচতে হিমের দেশে পাড়ি দিতে চাইছেন অনেকেই। সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন এরাজ্যের বাসিন্দারাও। তাই হিমাচল প্রদেশ (Himachal Pradesh) আশার আলো দেখাচ্ছে অন্য রাজ্যগুলিকেও। সম্প্রতি সেই পর্যটকদের (Tourist in Himachal Pradesh) ভিড়ের ছবি ভাইরাল হতেই জোরালো প্রতিক্রিয়া শোনা গেল নেট পাড়ায়। সমালোচনার ঝড় উঠেছে মানুষের ভয় না পেয়ে আবারও ভিড়ে গা ভাসানোর প্ৰবৃত্তিতে।

    সিমলা, কুফরি, নারকান্দা, ডালহৌসি, মানালির মতো জায়গায় ক্রমে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। হোটেলগুলিতে বুকিং পাওয়া যাচ্ছে না পর্যন্ত। ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি স্টেকহোল্ডার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মহিন্দর শেঠ বলেন, সপ্তাহান্তে এখন ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বুকিং পাচ্ছে হোটেলগুলি। অন্যান্য দিনে তা ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ। হিমাচলে পর্যটকদের করোনা সংক্রান্ত নিয়মকানুন শিথিল হওয়ায় মানুষ এখানে আসছেন, এমনটাই জানিয়েছেন মহিন্দর শেঠ।

    মূলত, দিল্লি ও সংলগ্ন জায়গা থেকে তো বটেই, দেশের নানা প্রান্ত থেকে হিমাচলের পাহাড়ে পৌঁছচ্ছেন। বাঙালিরাও যোগ দিয়েছেন তাতে। পর্যটনের নামজাদা প্রতিষ্ঠান কুণ্ডু স্পেশালের কর্ণধার সৌমিত্র কুণ্ডু বলেন,  "গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সবক’টি প্যাকেজ বাতিল হয়েছিল। কিন্তু চলতি মাসেই আমরা আবার হিমাচল প্রদেশ দিয়ে ফের যাত্রা শুরু করছি। হিমাচল ওই রাজ্যে পযর্টকদের আগে আরটিপিসিআর করানো হচ্ছিল। আমরা তাই ট্যুর বাতিল করেছিলাম। এবার তারা সেই নিয়ম থেকে সরে এসেছে। তাই মানুষ হিমাচলে বেড়াতে যেতে অত্যন্ত আগ্রহী।"

     কোভিড-বিধি শিকেয়? কোভিড-বিধি শিকেয়?

    উল্লেখ্য, হিমাচল প্রদেশ সরকার কোভিড -১৯ সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞাগুলি শিথিল করার পরে, বিশাল পর্যটকদের ভিড় জমে এই শৈলশহরে। ফলে ন্যাশনাল হাইওয়েগুলিতে ভয়ঙ্কর ট্র্যাফিক জ্যাম সৃষ্টি হয়। এদিকে, পার্কিংয়ের জায়গা না থাকায় এবং হোটেলগুলিতেও বুকিং পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় শেষমেশ হোটেলে 'রুম' না পেয়ে নিজেদের গাড়িতেই রাত কাটান বেড়াতে আসা বহু মানুষ।

    বর্তমানে কুলু জেলার অটল টানেল পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। গত রবিবার এই টানেল দিয়ে অন্তত ৬,৪০০ গাড়ি গেছে। যা রেকর্ড। আবার চম্বা জেলার ডালহৌসি, খাজ্জারে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডালহৌসি হোটেল ও রেস্তরাঁ সংস্থার প্রধান মনোজ চাড্ডা বলেছেন, ‘‌করোনা সংক্রমণ নিম্নগামী থাকলে আগামী কয়েকদিনে আরও পর্যটক আসবেন এখানে।’‌ আর এখানেই রয়েছে ভয়। পর্যটকরা কোভিড বিধি মেনে চলছেন না। মাস্ক থাকলেও সামাজিক দূরত্ববিধি উধাও। আর এতেই আতঙ্কিত নেটিজেনরা। তৃতীয় ঢেউয়ে ফের না হাসপাতালে শয্যার ঘাটতি দেখা দেয়।

    এই ছবি ভাইরাল হতেই সমালোচনা শুরু হয় নেটিজেনদের মধ্যে। তৃতীয় ঢেউ এর তোয়াক্কা না করেই এভাবে কোভিড বিধি শিকেয় তুলে বেড়ানোর নিন্দা করেন সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশ। তাঁরা বলেন, এখন হোটেলে রুম পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এই ভিড়ের পড়ে হয়তো হাসপাতালগুলিতে আর শয্যা পাওয়া যাবে না আগামী দিনে।

    Published by:Sanjukta Sarkar
    First published: