corona virus btn
corona virus btn
Loading

Coronavirus | এই মুহূর্তে ফ্যামিলি প্ল্যানিং থেকে বিরত থাকাই ভাল, পড়ুন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

Coronavirus | এই মুহূর্তে ফ্যামিলি প্ল্যানিং থেকে বিরত থাকাই ভাল, পড়ুন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

ঘরবন্দী মানে তারা ঘরের ভিতর থাকবেন৷ কিন্তু এর মানে তো এটা নয় যে তারা হাঁটাচলা বা মুভমেন্ট বন্ধ করবেন৷ বাড়িতে অবশ্যই হাঁটুন৷

  • Share this:

করোনার ভাইরাস যাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সেই গোষ্ঠির মধ্যে পড়ছেন গর্ভবতীরাও৷ এই কঠিন সময়ে তাই তাদের জন্য বাড়তি সতর্কতার কথাই জানাচ্ছেন মহিলারোগ বিশেষজ্ঞ কুশাগ্রধী ঘোষ৷ তার সঙ্গে কথা বললেন আমাদের প্রতিনিধি পূজা বসু দত্ত৷

প্রশ্ন- এই সময় সন্তানসম্ভবা বা প্রেগন্যান্ট মহিলারা কী কী বিশেষ ব্যবস্থা নেবেন?

উত্তর- COVID19-এর সতর্কতা নিয়ে দুটি ভাগ করা যেতে পারে৷ একটি হল অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য অন্যটি মায়ের গর্ভে থাকা সন্তান বা ভ্রুণের জন্য৷ যেহেতু প্রেগন্যান্ট মহিলাদের শারীরিকভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাই হাল্কা হাঁচি-কাশি বা সর্দি হলেই নির্দিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন৷ এই নিয়ে একেবারেই গড়িমসি করবেন না৷ এতে সমস্যা বাড়তে পারে৷ তখনই আপনার গাইনোকলজিস্ট, মেডিসিনের ডাক্তারবাবুর সঙ্গে আলোচনা করে আপনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করবেন৷ তারপর প্রয়োজন হলে আইসোলেশনে রাখা হতে পারে৷

এবার আসা যাক গর্ভের সন্তানের ব্যপারে৷ মা COVID19 বা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তা তার সন্তানের মধ্যে ভার্টিক্যালই ট্রান্সমিট হতে পারে৷ যার অর্থ, মা এই ভাইরাসে সংক্রমিত হলে, সন্তানেরও সংক্রমণের প্রবল সম্ভাবনা থাকবে৷ তবে এই জীবাণুর গতিপ্রকৃতি এতটাই নতুন যে এখনও পর্যন্ত কীভাবে তা ভ্রুণের ওপর কাজ করবে, সেটা সঠিক করে বলা সম্ভব নয়৷ এই ব্যাপারে চিকিৎসকরাও বিশেষ অবহত নয়৷ তবে এটা বলা যেতেই পারে যে কোভিড ভ্রুণগত ত্রুটির সম্ভাবনা কম৷ কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের আগে মায়ের লেবার পেইন উঠতে পারে৷ আবার অনেকক্ষেত্রে মিসক্যারেজ বা গর্ভপাতও হতে পারে৷

তাই এই নিয়ে অযথা ভয় পাবেন না৷ কোনও ভাবেই যেন আপনার শরীরে করোনার ভাইরাস না প্রবেশ করতে পারে, তার জন্য সচেতন থাকুন৷ ভিড় এড়িয়ে চলুন, কোনও কিছু স্পর্শ করবেন না, বারবার মুখে-নাকে হাত দেবেন না৷ বাইরে না যাওয়াই ভাল৷ যারা বিদেশ থেকে সদ্য ফিরেছেন, তাদেরও প্রয়োজনে এড়িয়ে চলুন৷

যারা ফ্যমিলি প্ল্যানিং-এর কথা ভাবছেন তাদের জন্য এই সময়টা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ৷ IVF বা  টেস্ট টিউবের ক্ষেত্রে কিছুদিন বিরত থাকা ভাল৷ এই রোগের প্রকোপ কেটে যাওয়ার পর ফের চেষ্টা করতে শুরু করুন৷

প্রশ্ন- যারা চেকআপে আসছেন বা হাসপাতাল, ডাক্তারের চেম্বারে আসতে হচ্ছে, তাদের কী বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে?

উত্তর- যদি সম্ভব হয় তাহলে হাসপাতালে কম যান৷ ডাক্তারবাবুর সঙ্গে কথা বলুন, যদি ১৫ দিনের বদলে ১ মাস পর ডাক্তার দেখাল সমস্যা না হয়, তাহলে তাই করুন৷ যে কোনও পরিবারের জন্য এটা খুবই উচ্ছ্বাসের সময়৷ কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে আবেগে না ভেসে একটু সতর্ক থাকুন৷ হবু মায়ের সঙ্গে পুরো পরিবার না এসে একজন করেই আসুন৷ এতে ভিড় এড়ানো সম্ভব৷

প্রশ্ন- ডেলিভারির আগে অনেক সময় মহিলা নিজেদের ফিটনেস বজায় রাখতে নিয়মিত হাঁটেন, বা যোগা করেন৷ এখন যেহেতু প্রায় সকলেই ঘরবন্দী, অনেকে ঘরে থেকেই কাজ করছেন৷ অফিসও বন্ধ৷ তাই কীভাবে গর্ভবতীরা নিজেদের ফিটনেস বজায় রাখবেন?

উত্তর- এটা খুবই ভাল প্রশ্ন৷ ঘরবন্দী মানে তারা ঘরের ভিতর থাকবেন৷ কিন্তু এর মানে তো এটা নয় যে তারা হাঁটাচলা বা মুভমেন্ট বন্ধ করবেন৷ বাড়িতে অবশ্যই হাঁটুন৷ প্রয়োজন ছাদে বা বারান্দায় হাঁটুন৷

প্রশ্ন- করোনার আতঙ্ক তো গর্ভবতীদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে৷ সারাদিনই এই ধরণের খবরে মন খারাপই হচ্ছে৷ কিন্তু এই সময় তো হাসিখুশি থাকা উচিৎ?

উত্তর- নিশ্চয়ই৷ যতটুকু জানার প্রয়োজন ততটাই জানুন এই রোগ নিয়ে৷ সচেতন থাকুন৷ টেনশন, প্যানিক বা ঘনঘন এই নিয়ে আলোচনা করবেন না৷ সিনেমা দেখুন, বই পড়ুন, আনন্দে থাকুন৷

First published: March 20, 2020, 7:48 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर