corona virus btn
corona virus btn
Loading

সঙ্কটে চার বছরের শিশু, তরুণ জেলাশাসক যা করলেন, কুর্নিশ জানাবেন আপনিও

সঙ্কটে চার বছরের শিশু, তরুণ জেলাশাসক যা করলেন, কুর্নিশ জানাবেন আপনিও
জেলাশাসক মান্নান আখতার৷

শিশুটির বাবা জেলাশাসককে জানান, যেহেতু জেলা হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের স্ক্রিনিং চলছে তাই সেখানে তাঁর মেয়ে নিয়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছে৷

  • Share this:

#উরাই: এমবিবিএস পাশ করে চিকিৎসক হয়েছেন৷ কিন্তু পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন সরকারি চাকরিকেই৷ উত্তর প্রদেশের তরুণ আইএএস অফিসার মান্নান আখতার রাজ্যের জালৌন জেলার জেলাশাসক হিসেবে কাজ করেছেন৷

ঘটনাটি উত্তর প্রদেশের উরাই শহরের৷ করোনা সংক্রমণের জেরে লকডাউন চলায় প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে নিজের অধস্তন এবং সরকারি আধিকারিকদের থেকে নিজের জেলার সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি৷ গত ২৯ এপ্রিল এরকমই একটি বৈঠক করার মাঝে তাঁর ফোনে একটি মেসেজ আসে৷ অপরিচিত নম্বর থেকে আসা সেই মেসেজ উপেক্ষা না করে পড়ে দেখেন জেলাশাসক৷

তিনি দেখেন, মেসেজটিতে রয়েছে একটি কাতর আবেদন৷ জেলাশাসকের উদ্দেশে অসহায় এক অভিভাবক লিখেছেন, 'আমার চার বছরের মেয়ে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত৷ ওর সিবিসি পরীক্ষা করা খুব জরুরি৷ দয়া করে সাহায্য করুন৷'

এই মেসেজ পড়ার পর আর দেরি করেননি জেলাশাসক৷ নিজে চিকিৎসক হওয়ায় বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেশি করে বুঝতে পারেন তিনি৷ ওই অপরিচিত নম্বরে নিজেই ফোন করেন জেলাশাসক৷

এত তাড়াতাড়ি যে জেলাশাসকের থেকে সাড়া মিলবে, সম্ভবত তা ভাবতে পারেননি ওই শিশুটির বাবা৷ ফোন পেয়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য তিনিও থমকে যান৷ জেলাশাসক তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, 'আমি আপনার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করছি৷ আপনার মেয়েকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে আসুন৷'

কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি৷ শিশুটির বাবা জেলাশাসককে জানান, যেহেতু জেলা হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের স্ক্রিনিং চলছে তাই সেখানে তাঁর মেয়ে নিয়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছে৷ লকডাউনের কারণে শহরের সমস্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারও বন্ধ৷ এই পরিস্থিতিতে জেলাশাসকও উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন৷ তবে হাল না ছেড়ে সমস্যার সমাধান করেন তিনি৷

সহকারী জেলাশাসক পুষ্পেন্দ্রকে তিনি বলেন, শহরের কোনও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মীকে নিয়ে ওই শিশুর বাড়িতে পৌঁছতে৷ জেলাশাসকের নির্দেশ মতো অনেক চেষ্টার পর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক কর্মীকে নিয়ে ওই শিশুটির বাড়িতে পৌঁছন এডিএম৷ শিশুটির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়৷ শিশুটির বাড়ি থেকে ফিরে তাঁর সম্পর্কে জেলাশাসককে বিস্তারিত জানান এডিএম৷

সবকিছু শুনে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েন জেলাশাসক মান্নান আখতার৷ পরে নিজেই ওই ল্যাবে গিয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ করেন তিনি৷ ওই শিশুটির রিপোর্ট এবং শারীরিক অবস্থা নিয়ে নিজের চিকিৎসক বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনাও করেন তিনি৷ তার পর রিপোর্ট নিয়ে নিজেই পৌঁছে যান ওই শিশুটির বাড়িতে৷

অবসর সময়ে বিনামূল্য গরিব মানুষের চিকিৎসা করেন মান্নান আখতার৷

সেখানে গিয়ে শিশুটির বাবাকে রক্ত পরীক্ষার ফলাফল এবং কী করণীয় তা ভালভাবে বোঝান তরুণ ওই জেলাশাসক৷ শিশুটির শারীরিক সমস্যা নিয়েও পরিবারের থেকে জেনে নেন তিনি৷ চিকিৎসক হিসেবে পরামর্শও দেন৷ পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনও সমস্যা হলে তাঁকে জানানোর জন্য বলে আসেন জেলাশাসক৷

মান্নান আখতারের এমন উদ্যোগ অবশ্য তাঁর পরিচিতরা খুব একটা অবাক নন৷ কারণ জেলাশাসক হিসেবে যাবতীয় ব্যস্ততা সামল অবসর সময়ে বিনামূল্যে গরিব মানুষের চিকিৎসা করেন তিনি৷ এমন মানুষ যে চার বছরের শিশুর যন্ত্রণার কথা শুনে চুপ করে বসে থাকবেন না, তা বলাই বাহুল্য৷

Published by: Debamoy Ghosh
First published: May 2, 2020, 9:26 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर