Kolkata Tragedy|| হাসপাতালে ১৫ লক্ষের বিল! ৪৫ দিনে করোনায় স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ির মৃত্যু! ছেলেকে নিয়ে দিশেহারা মা

করোনায় মৃত্যু। প্রতীকী ছবি।

শ্বশুরের চিকিৎসা করাতে সিআইটি রোডের নার্সিংহোমে বিল হয়েছিল ৩ লক্ষ ১১ হাজার টাকা। শাশুড়ির চিকিৎসার বিল হয় ৫ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা। আর স্বামীর চিকিৎসার বিল হয় ৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।

  • Share this:

#কলকাতা: চূড়ান্ত অসহায় পরিবারের কাহিনী। উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা মধুমিতা বাগচী। স্বামী-সন্তান, শ্বশুর, শাশুড়ি নিয়ে ছিল সুখের সংসার। কিন্তু মাত্র মাস খানেকের মধ্যেই অদৃশ্য ভাইরাস ছারখার করে দিল গোটা পরিবার। মে মাসে প্রথমে করোনা আক্রান্ত হন মধুমিতার শ্বশুরমশাই (৬৫) সুশান্ত বাগচী। সিআইটি রোডের হরাইজন নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয় তাঁকে। ৩ লক্ষ ১১ হাজার টাকা বিল হয় হাসপাতালে, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। শ্বশুরের মৃত্যু হয় ওই নার্সিংহোমে। এরই মধ্যে মধুমিতার শাশুড়ি মা লীনা বাগচীও করোনা আক্রান্ত হন। তাঁকে ভর্তি করানো হয় রাজারহাটের লোটাস নার্সিংহোমে। শাশুড়ি ভর্তি থাকাকালীন করোনা আক্রান্ত হয় স্বামী শুভময় বাগচী। ১৭ দিন লোটাস নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন থাকার পর প্রথমে মৃত্যু হয় শাশুড়ির, পরে স্বামীকে হারান মধুমিতা। চার বছরের সন্তানকে নিয়ে এখন দিশেহারা অবস্থা তাঁর।

শ্বশুরের চিকিৎসা করাতে সিআইটি রোডের নার্সিংহোমে বিল হয়েছিল ৩ লক্ষ ১১ হাজার টাকা। শাশুড়ির চিকিৎসার বিল হয় ৫ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা। আর স্বামীর চিকিৎসার বিল হয় ৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। একদিকে পরিবারের সবাইকে হারিয়ে দিশেহারা অবস্থা, অন্যদিকে, বিপুল চিকিৎসার খরচে সর্বস্বান্ত। পথে বসা ছাড়া প্রায় কোন উপায় ছিল না। বর্তমানে চার বছরের সন্তানকে নিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের অর্থনৈতিক সাহায্যে দিন কাটছে তাঁর।

এক সহৃদয় আত্মীয় মধুমিতা বাগচীর হয়ে এই বিপুল পরিমাণে চিকিৎসার খরচ নিয়ে অভিযোগ জানান রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনে। সোমবার স্বাস্থ্য কমিশন সমস্ত বিল খতিয়ে দেখে রাজারহাটের লোটাস নার্সিংহোমকে চার লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা মধুমিতা বাগচীকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়। রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, "অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। গোটা পরিবারকে হারিয়ে অসহায় অবস্থা পুত্রবধূর। আমরা লোটাস হাসপাতালের সমস্ত বিল খতিয়ে দেখেছি। শাশুড়ি এবং স্বামীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে অক্সিজেন ব্যবহার-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচুর বেশি বিল নেওয়া হয়েছে। আমরা ৪ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা মৃতের পরিবারকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।"

ABHIJIT CHANDA

Published by:Shubhagata Dey
First published: