বেনজির মাতৃত্ব ! মেয়ে কোভিডে শয্যাশায়ী, সারোগেসিতে জন্ম দেওয়ার পর নাতনিকে আগলে রাখেন দিদিমা

Reprsentative Image

সারোগেসির সিদ্ধান্তে পৌঁছনর আগে পেরতে হয়েছে বহু ঝড় ৷ ২০০৮ সালে মেয়ের বিয়ে দেন ওই মধ্যবয়সিনী ৷ কিন্তু দাম্পত্যের বয়স ১৩ বছর হয়ে যাওয়ার পরও সন্তান ভূমিষ্ঠ করতে পারেননি তাঁর মেয়ে ৷ মাঝে ৭ বার গর্ভপাতের যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে ৷

  • Share this:

    কোভিড ঝড়ের বিধ্বংসী তাণ্ডবের মধ্যেই মাতৃত্বের অসামান্য নজির গুজরাতের আনন্দে ৷ এই জেলার এক গ্রামে মেয়ের জন্য ‘সারোগেট মাদার’ হলেন তাঁর মা ৷ এখানেই শেষ নয় ৷ সদ্যোজাত সন্তানকে স্তন্যপানও করালেন ৷ কারণ মেয়ে তখন কোভিড আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ৷

    ওই মধ্যবয়সিনী জানিয়েছেন, গত ৬ এপ্রিল তিনি সারোগেসির মাধ্যমে নিজের মেয়ের কন্যাসন্তান অর্থাৎ নাতনির জন্ম দিয়েছেন ৷ ঘটনাচক্রে ওই দিন তাঁর মেয়েরও জন্মদিন ৷ অর্থাৎ ক্যালেন্ডারের একই দিনে কয়েক বছরে ব্যবধানে তিনি মেয়ে এবং নাতনিকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন ৷

    সারোগেসির সিদ্ধান্তে পৌঁছনর আগে পেরতে হয়েছে বহু ঝড় ৷ ২০০৮ সালে মেয়ের বিয়ে দেন ওই মধ্যবয়সিনী ৷ কিন্তু দাম্পত্যের বয়স ১৩ বছর হয়ে যাওয়ার পরও সন্তান ভূমিষ্ঠ করতে পারেননি তাঁর মেয়ে ৷ মাঝে ৭ বার গর্ভপাতের যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে ৷ তাছাড়াও নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম হয়ে গিয়েছে অপরিণত শিশুর ৷ বাঁচানো যায়নি সেই সদ্যোজাতকে ৷ মা হতে গিয়ে নিজেও মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এসেছেন ওই তরুণী ৷ শেষে মেয়ের যন্ত্রণা দেখে আর স্থির থাকতে পারেননি মা৷ সারোগেট মাদার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি ৷ মেয়েকে কথা দেন মায়ের মাধ্যমেই মাতৃত্বের স্বাদ পাবেন তিনি ৷

    মেয়েকে দেওয়া কথা রাখতে তাঁর সন্তান গর্ভে ধারণ করেন ওই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী ৷ কিন্তু নির্বিঘ্নে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়ে যাওয়ার পরও দেখা দিল বিপত্তি ৷ ১২ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হন তাঁর মেয়ে ও জামাই অর্থাৎ সদ্যোজাত কন্যার বাবা-মা ৷

    প্রথমে বাড়িতে নিভৃতবাসে থাকলেও শেষে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় ৷ তাঁদের অনুপস্থিতিতে নাতনির দেখভাল করেছেন দিদিমাই ৷ সদ্যোজাতকে স্তন্যপানও করিয়েছেন তিনি ৷

    শারীরিক ও মানসিক ঝড় পাড়ি দেওয়ার পরও সুস্থ আছেন ৫৯ বছর বয়সি ওই মহিলা ৷ পরিবারিক গণ্ডিতে তো বটেই ৷ তাঁর নজিরবিহীন লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন পরিচিত মহলও ৷ তাঁর মতো মা পেয়ে তিনি গর্বিত, অকুণ্ঠ কণ্ঠে সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন মেয়ে ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: