কমছে সংক্রমণ, রাজ্যে কমানো হল নির্ধারিত বেডের সংখ্যা

এক সপ্তাহের মধ্যে ২বার শয্যার সংখ্যা কমানো হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত ৫৭টি বেসরকারি হাসপাতাল করোনার চিকিৎসার জন্য অধিগ্রহণ করে রেখেছিল স্বাস্থ্য দফতর

এক সপ্তাহের মধ্যে ২বার শয্যার সংখ্যা কমানো হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত ৫৭টি বেসরকারি হাসপাতাল করোনার চিকিৎসার জন্য অধিগ্রহণ করে রেখেছিল স্বাস্থ্য দফতর

  • Share this:

    #কলকাতা: রাজ্যে ক্রমশই কমছে দৈনিক করোনা সংক্রমণ। নতুন আক্রান্তের সংখ্যা যেমন কমছে, তেমনই কমছে সংক্রমণের হারও। স্বাভাবিকভাবেই কমছে হাসপাতালের কোভিডের শয্যার প্রয়োজনীয়তা। আর তাই রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে কোভিডের জন্য নির্ধারিত শয্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য।

    গত এক সপ্তাহের মধ্যে দুই বার শয্যার সংখ্যা কমানো হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত ৫৭টি বেসরকারি হাসপাতালকে করোনার চিকিৎসার জন্য অধিগ্রহণ করে রেখেছিল স্বাস্থ্য দফতর। শনিবার রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এই সংখ্যা ২৫-এ নেমেছে। তবে আগের মতোই ৪৪টি সরকারি হাসপাতালকেই কোভিডের চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করা রয়েছে৷ এই প্রসঙ্গেই রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেই নির্দেশিকায় জানানো হয়, রাজ্যে নতুন সংক্রমণ এবং হাসপাতালে ভরতি হওয়া করোনা রোগীর সংখ্যা ক্রমশ কমছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, রাজ্যের যে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে এত দিন কোভিডের চিকিৎসার জন্য রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের তরফে অধিগ্রহণ করে রাখা হয়েছিল , সেগুলিকে ধাপে ধাপে ছেড়ে দেওয়া হবে।তবে ভবিষ্যতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে তিন দিনের নোটিশে জারি করা হবে এবং পুনরায় বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে অধিগ্রহণ করা হবে, এমনটাই জানানো হয়েছে ওই নির্দেশিকায়।

    অপরদিকে, কিন্তু কলকাতা মহানগরকে ‘অতিমারী মুক্ত’ এখনই ঘোষণা করছে না রাজ্য স্বাস্থ্যদফতর। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী কোনও এলাকা বা রাজ্যকে অতিমারী ক্ষেত্র ঘোষণা করে কেন্দ্র, তাই মুক্ত চিহ্নিত করতে প্রয়োডন পড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের এই ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। রাজ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, শুধু কলকাতা নয়, গোটা রাজ্যেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশ নিম্নমুখী। রাজ্যে সংক্রমণের হার এখন মাত্র ১.২ শতাংশ। যা অত্যন্ত স্বস্তির। তবে আরও অন্তত বেশ কয়েক মাস এই সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। তাহলেই বোঝা যাবে করোনা ভাইরাস আসলে কতটা নিয়ন্ত্রণে। তিনি আরও বলেন, ভ্যাকসিন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মাস্ক পরা ও অন্যান্য নিয়ম কঠোরভাবে মানার আদেশ দেন তিনি। ঠিক আট মাস আগে কলকাতায় করোনা সংক্রমণ ছিল ১৩-১৪ শতাংশের মধ্যে। এরপরেই উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলি জেলা। শেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭ জনের মৃত্যু হওয়ায় রাজ্যে মোট করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৫৫। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্যে করোনা নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ছিল ৭৯ লক্ষ ১৯ হাজার ৬৩৭। শুক্রবার নতুন করে ২৫ হাজার ৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। মোট পরীক্ষা করা নমুনার সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ৭৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭০১-এ।

    কলকাতা বা উত্তর ও জঙ্গলমহলের জেলায় সংক্রমণ কমলেও উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা এখনও কপালে ভাঁজ ফেলছে করোনা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে তাই সেফ হোম কমছে। বেসরকারি হাসপাতালে শয্যা সংখ্যাও কমানো হয়েছে। এদিকে, আগামী সপ্তাহ থেকে কোভ্যাকসিন টিকাকরণ শুরু হবে। কোভ্যাকসিন টিকা দেওয়া হবে রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজ থেকেই । এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্যদফতরের তরফে ৷

    Published by:Simli Dasgupta
    First published: