Home /News /business /
Mutual Fund: মিউচুয়াল ফান্ডে ইনভেস্ট করার কথা ভাবছেন? আগে জেনে নিন কত টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করলে লাভবান হবেন....

Mutual Fund: মিউচুয়াল ফান্ডে ইনভেস্ট করার কথা ভাবছেন? আগে জেনে নিন কত টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করলে লাভবান হবেন....

Mutual Fund: মিউচুয়াল ফান্ডে কত দিন পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে হয়?

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি:  অনেক সময়েই বিনিয়োগকারীর মাথায় একটা প্রশ্নটা ঘুরপাক খায়। সেটা হল- কত টাকা (Ideal Amount) দিয়ে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ (Investment) শুরু করা যায়। এক কথায় এর কোনও উত্তর নেই। বিনিয়োগ শুরু করার জন্য যে কোনও পরিমাণ অর্থই আদর্শ। আর সেটা নির্ভর করছে বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টরের উপর। বিনিয়োগকারীর আয় কত, কত টাকাই বা ব্যয় হয়, কী কারণে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, বিনিয়োগকারী কী পরিমাণ ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত-- এই সব কিছুর উপরে। তবে এটা মনে রাখতে হবে যে, ফিক্সড ডিপোজিট, ডিবেঞ্চার, শেয়ার বা আর পাঁচটা বিনিয়োগ মাধ্যমের মতো মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Fund) নয়। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। মিউচুয়াল ফান্ড নিজে কোনও বিনিয়োগের মাধ্যম নয়, বরং এটা বিভিন্ন বিনিয়োগ মাধ্যমে প্রবেশ করার একটা উপায়।  

    আরও পড়ুন: একাধিক রাজ্যে কমল পেট্রোল-ডিজেলের দাম! জেনে নিন আপনার শহরে কত হল

    এই ব্যাপারটাকে একটা রেস্তরাঁর সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। সেখানে গ্রাহক বুফে অথবা থালি অথবা মিল অর্ডার করতে পারেন। আবার মেনু কার্ড দেখে নির্দিষ্ট একটি বা দুটি পদেরও অর্ডার দিতে পারেন। অর্থাৎ, কোন খাবার নিজের পছন্দমতো বেছে নিতে পারেন গ্রাহক। এ বার সম্পূর্ণ থালি বা মিলের সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ডের তুলনা করা যাক। এখানে একক আইটেমগুলি যেগুলি গ্রাহক বা বিনিয়োগকারী মেনু থেকে অর্ডার করবেন, সেগুলি হল-- স্টক, বন্ড প্রভৃতি। একটা থালি নিলে পছন্দ করতে গ্রাহকের সুবিধা হয়। সময় এবং অর্থেরও সাশ্রয় হয় অনেকটাই।    

    আরও পড়ুন: যুদ্ধের জেরে বাজারে পতন, এটাই কি বিনিয়োগের সঠিক সময়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা...

    আর্থিক পরিকল্পনা হল, আদতে গাড়ি চালানোর মতো। প্রথমে ইঞ্জিনে স্টার্ট দিতে হবে। গাড়ি এক বার চালু হয়ে গেলে চালক নিজের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অনুযায়ী গাড়ির গতি বা স্পিড বাড়াতে পারেন। সম্পদ তৈরির জন্য জনপ্রিয় বিনিয়োগের ধারণাটা হল, তাড়াতাড়ি বিনিয়োগ করা, নিয়মিত বিনিয়োগ করা এবং দীর্ঘমেয়াদের জন্য বিনিয়োগ করা। সেটা ৫০০ টাকা হতে পারে, আবার ৫ কোটি টাকাও হতে পারে। বিনিয়োগ শুরু করাটাই গুরুত্বপূর্ণ, টাকার অঙ্কটা নয়। কারণ, এটা যাত্রার শুরুকে চিহ্নিত করে।  

    এ বার বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ শুরু করলেই বুঝতে পারবেন যে, বিনিয়োগগুলি বাড়ানোর অনেক রকম উপায় আছে। মিউচুয়াল ফান্ড স্কিমে বিনিয়োগকারী একই ফান্ড বা অ্যাকাউন্টে সর্বদা অতিরিক্ত কেনাকাটা করতে পারেন। অনেক ফান্ড হাউসগুলিতে, এটা ১০০ টাকার মতো কম পরিমাণের হতে পারে। আবার নির্দিষ্ট অর্থ অন্যান্য স্কিম থেকে স্থানান্তরিত বা স্যুইচ করা যেতে পারে। আবার বিনিয়োগকারী একটি সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান শুরু করতে পারেন, যা একটা স্কিমে নিয়মিত বিনিয়োগ করতে সক্ষম। এটা অনেকটা ব্যাঙ্কের রেকারিং ডিপোজিটের মতো। এ ছাড়াও অনেক এএমসি (AMC) একটি অর্থবর্ষে ধীরে ধীরে তাদের এসআইপি (SIP)-র বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে দেয়। যার ফলে বছরে বার্ষিক বেতন বা আয়ের বৃদ্ধি ঘটে। এগুলো মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সুবিধা। যার ফলে একবিংশ শতাব্দীর ব্যস্ত সময়ে এটা হয়ে উঠেছে বিনিয়োগের একদম আদর্শ ঠিকানা।

    আরও পড়ুন: তিন দিনে বিনিয়োগকারীদের মূলধন বাড়ল ১০.৮৩ লক্ষ কোটি টাকা! কোন ম্যাজিকে?

    এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, মিউচুয়াল ফান্ডে কত দিন পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে হয়? এটা নির্ভর করে বিনিয়োগের লক্ষ্যের উপর। সমস্ত বিনিয়োগই আদর্শগত ভাবে একটি আর্থিক বা বিনিয়োগ পরিকল্পনার ভিত্তিতে ফলাফল প্রদান করে। এই পরিকল্পনাগুলি সাধারণত ঠিক করে দেয় বিনিয়োগকারীর আর্থিক লক্ষ্য পূরণ হতে কত সময় লাগবে। ধরা যাক, এক জন বিনিয়োগকারী, যিনি একটি রিয়েল এস্টেট লেনদেনে ৫০ লাখ টাকা পেয়েছেন। এ বার সেই টাকা দিয়ে কী করা যায়, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিনিয়োগের একটি নিরাপদ জায়গা বার করতে চাইছেন। এ ক্ষেত্রে একটি আদর্শ স্কিম হতে পারে লিক্যুইড ফান্ড, যেটি সাধারণত পুঁজির নিরাপত্তার উচ্চ সম্ভাবনা-সহ লিক্যুইডিটি প্রদান করার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। তিনি যখন চাইবেন, তখনই রিডিম করতে পারবেন। তাই কতটা সময় ধরে বিনিয়োগ করতে হবে, তা সম্পূর্ণ রূপে নির্ভর করে বিনিয়োগের লক্ষ্যের উপর।  

    এখন যেটা জরুরি, সেটা হল-- অল্প পরিমাণ হলেও তাড়াতাড়ি বিনিয়োগ শুরু করা। আর পাশাপাশি, মাথায় রাখতে হবে যে, কম পরিমাণে হলেও নিয়মিত বিনিয়োগ করতে হবে এবং দীর্ঘ মেয়াদের জন্য বিনিয়োগ করতে হবে। যাতে বিনিয়োগকারীর চাহিদা মতো বৃদ্ধির সুযোগ থাকে। অনেকেই মনে করেন, বেশি অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য, মিউচুয়াল ফান্ডগুলিতে বেশি পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। এটা একেবারেই ভুল ধারণা। সামান্য থেকে সামান্যতম পরিমাণ (সেটা ৫০০ টাকাও হতে পারে) প্রতি মাসে বিনিয়োগ শুরু করা যায় এবং বিনিয়োগকারীর আয় বৃদ্ধির সঙ্গে ধীরে ধীরে বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়ানো যেতে পারে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীকে আরও ভালো রিটার্ন দেয়। আসল ব্যাপার হল, নিম্নবিত্ত থেকে ধনী-- মিউচুয়াল ফান্ড সবার জন্য। তাই নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকাই বিনিয়োগের জন্য উত্তম, এমন নয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিনিয়োগ শুরু করাটাই এখানে আসল।

    Published by:Dolon Chattopadhyay
    First published:

    Tags: Investment in Returns, Mutual Fund

    পরবর্তী খবর