Home /News /business /
GST: চাল, ডাল, আটা এই ভাবে কিনলে আর গুনতে হবে না জিএসটি! সাফ জানালেন অর্থমন্ত্রী

GST: চাল, ডাল, আটা এই ভাবে কিনলে আর গুনতে হবে না জিএসটি! সাফ জানালেন অর্থমন্ত্রী

GST: এই সব পণ্যই যদি খোলা বাজারে (loose) বিক্রি হয়, তা-হলে তার উপর ওই জিএসটি (Goods and Service Tax) লাগু হবে না।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: প্যাকেট জাত এবং লেবেল আঁটা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপর সোমবার থেকে ৫ শতাংশ জিএসটি (GST) বসেছে। আর এই সব পণ্যের আওতায় রয়এছে চাল, দুধ, ডাল ইত্যাদি সহ- আমাদের রোজকার প্রয়োজনীয় পণ্য। এর ফলে স্বভাবতই আরও টান পড়েছে জনসাধারণের পকেটে। আর জিএসটি চাপানোর কথা ঘোষণার পরেই শুরু হয়েছিল অসন্তোষ। এর পর মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman) সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই সব পণ্যই যদি খোলা বাজারে (loose) বিক্রি হয়, তা-হলে তার উপর ওই জিএসটি (Goods and Service Tax) লাগু হবে না।

আরও পড়ুন:প্রতি সিলিন্ডারে ২০০ টাকা ভর্তুকি! কারা পাবেন আর কারা পাবেন না, জেনে নিন

নির্মলা সীতারমণ পর-পর ১৪টি ট্যুইট করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে যে, জিএসটি কাউন্সিলের কোনও এক জন সদস্য নন, বরং সমস্ত সদস্য মিলেই প্রি-প্যাকড এবং প্রি-লেবেলড পণ্যের উপর কর ধার্য করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর এই সব পণ্য যখন প্যাকেটজাত কিংবা লেবেল সাঁটা হিসেবে বিক্রি করা হবে না, তার বদলে খোলা বাজারে খুচরো হিসেবে বিক্রি করা হবে, তখন কিন্তু তার উপর এই কর চাপবে না।

তিনি আরও জানিয়েছেন যে, সম্প্রতি জিএসটি কাউন্সিল (GST Council) নিজেদের ৪৭-তম বৈঠকে ডাল, শস্য এবং আটা প্রভৃতি খাদ্য পণ্যের উপর জিএসটি ধার্য করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছিল। আসলে এই জিএসটি সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন ভুল ধারণা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। সীতারমণ তাঁর একটি ট্যুইটে আবার বলেছেন যে, “এই ধরনের খাদ্য পণ্যে এমন কর চাপানোর বিষয়টা কি নতুন? একেবারেই না। জিএসটি পূর্ব সময়েও বিভিন্ন খাদ্যশস্যের উপর তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে রাজস্ব সংগ্রহ করত রাজ্যগুলি। হিসেব বলছে, শুধু পঞ্জাবই ক্রয় করের মাধ্যমে খাদ্যশস্যের উপর প্রায় ২০০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। আবার এই ভাবে উত্তরপ্রদেশও সংগ্রহ করেছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।”

আরও পড়ুন:প্রতি সিলিন্ডারে ২০০ টাকা ভর্তুকি! কারা পাবেন আর কারা পাবেন না, জেনে নিন

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, এই সূত্র ধরেই যখন জিএসটি চালু হল, তখন ব্র্যান্ডেড খাদ্যশস্য, ডাল এবং আটার উপর ৫ শতাংশ হারে জিএসটি ধার্য করা হয়েছিল। পরে অবশ্য এই নিয়মের খানিক সংশোধন করা হয়েছে। রেজিস্টার্ড ব্র্যান্ড অথবা যে-সব ব্র্যান্ডের প্রয়োগযোগ্য অধিকার সরবরাহকারী অগ্রাহ্য করেননি, সেই সব ব্র্যান্ডের আওতায় বিক্রি হওয়া পণ্যের উপরেই কর বসানো হয়েছে। যদিও এই নিয়মের যথেচ্ছ অপব্যবহার করেন কিছু নামকরা প্রস্তুতকারী এবং ব্র্যান্ড মালিকরা। যার ফলে এই সব পণ্যের জিএসটি রাজস্ব তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে কমে গিয়েছে। আর এতে ক্ষুব্ধ হয়েছে সরবরাহকারী এবং শিল্প সমিতিগুলি। কারণ তাঁরা ব্র্যান্ডেড পণ্যের উপর কর মিটিয়ে যাচ্ছিলেন। এর পরেই এই নিয়মের অপব্যবহার রুখতে জিএসটি যাতে অভিন্ন ভাবে সমস্ত প্যাকেটজাত পণ্যের উপরেই বসানো হয়, তার জন্য তারা সরকারের কাছে চিঠি লিখে আর্জি জানায়। রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা এবং গুজরাতের আধিকারিকদের নিয়ে তৈরি ফিটমেন্ট কমিটি (Fitment Committee) বিভিন্ন বৈঠকে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখে। সব দিক পর্যালোচনা করে এই নিয়মের অপব্যবহার রুখতে পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেয় তারা। এর পর প্রি-প্যাকেজড বা প্যাকেটজাত এবং প্রি-লেবেলড পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রেই জিএসটি ধার্য করার নিদান দিয়েছে ওই কমিটি।

সেই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, নিচে দেওয়া তালিকায় থাকা পণ্য যদি আগে থেকে প্যাকেটজাত কিংবা লেবেল সাঁটা না-হয়, অর্থাৎ তা যদি খোলা বাজারে খুচরো হিসেবে বিক্রি করা হয়, সে-ক্ষেত্রে ওই সব পণ্যে জিএসটি গুনতে হবে না।

খোলা বাজারে খুচরো বিক্রি হওয়া এই সব পণ্যে জিএসটি লাগু হচ্ছে না:

ডাল

গম

রাই

ওটস

ভুট্টা

চাল

আটা/ ময়দা

সুজি/ রাওয়া

বেসন

মুড়ি

দই/ লস্যি

জিএসটি কাউন্সিলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত, জোর দিলেন অর্থমন্ত্রী:

নির্মলা সীতারমণ তাঁর করা ট্যুইটে বারবার যে বিষয়ের উপর জোর দিয়েছেন, সেটা হল এই সব পণ্যের উপর ৫ শতাংশ জিএসটি বসানোর সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ভাবেই গ্রহণ করেছে জিএসটি কাউন্সিল। আর এই কাউন্সিলে রয়েছেন বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন মন্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, কাউন্সিলে রয়েছে বিরোধী দল শাসিত রাজ্যগুলিও। এই প্রসঙ্গে সীতারমণ বলেন, পঞ্জাব, ছত্তিসগড়, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, কেরলের মতো নন-বিজেপি রাজ্যগুলি-সহ দেশের সমস্ত রাজ্যই জিএসটি কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন: নতুন এয়ারলাইন Akasa Air ঘোষণা করল ভাড়া, রুট, অফার!IndiGo-র থেকে কতটা আলাদা তারা

এই সিদ্ধান্তগ্রহণকারী জিওএম (GoM) গঠন করা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থান, কেরল, উত্তর প্রদেশ, গোয়া এবং বিহারের সদস্যদের নিয়ে। আর এর নেতৃত্বে ছিলেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী। ট্যাক্স লিকেজের কথা মাথায় রেখেই এরা প্রস্তাব বিবেচনা করেছেন, বলেই জানালেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে বিরোধী দলগুলি তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রতিবাদ করেছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ ছিল, এই কর বসিয়ে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published:

Tags: GST, GST Council

পরবর্তী খবর