Home /News /business /
Credit Card: এই কোম্পানির ক্রেডিট কার্ডে বাড়িতে বসে গোল্ড লোন পাওয়া যাবে, জেনে নিন বিশদে

Credit Card: এই কোম্পানির ক্রেডিট কার্ডে বাড়িতে বসে গোল্ড লোন পাওয়া যাবে, জেনে নিন বিশদে

গ্রাহকরা তাদের সোনার গয়না বন্ধক রেখে একটি কার্ড পেতে পারেন।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ভারতীয় বাজারে সোনায় বিনিয়োগ নতুন কোনও ঘটনা নয়। নতুন নয় ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারও প্রযুক্তির যুগে। কিন্তু একই কার্ডে গোল্ড লোন এবং ক্রেডিটের মেলবন্ধন? শুনতে আশ্চর্য লাগলেও দেশের বাজারে এবার সেই পরিষেবাও এসে গিয়েছে।

ফিনটেক লেন্ডার রূপিক (Rupeek) একটি কার্ড চালু করেছে যা গ্রাহকের বন্ধক রাখা সোনার (যেমন গয়না এবং অলঙ্কার) ওপর ভিত্তি করে ক্রেডিট অফার করে। রুপিক প্রাইম নামে পরিচিত এই কার্ডটি কোনও সাধারণ ক্রেডিট কার্ডের তুলনায় একটি সুরক্ষিত কার্ড।

রুপিক কার্ডের অফার

Rupeek-এর এই কার্ডটি একটি প্রি-পেইড কার্ড ৷যেহেতু ফিনটেক লেন্ডার কার্ড ইস্যু করতে পারে না, তাই একটি ব্যাঙ্কের সঙ্গে টাই-আপ করা আবশ্যক৷ কার্ডটি ঘরোয়া Rupay নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে।গ্রাহকরা তাদের সোনার গয়না বন্ধক রেখে একটি কার্ড পেতে পারেন। Rupeek-এবন্ধক রাখা সোনার মূল্যের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্রেডিট সীমা অফার করে। এই কার্ডের সর্বোচ্চ ক্রেডিট সীমা ৫০ লক্ষ টাকা অর্থাৎ গ্রাহক সোনা বন্ধক রেখে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পেটে পারেন।

Rupeekকোম্পানির এই কার্ডের সুবিধা হায়দরাবাদ, মুম্বাই, পুণে, চেন্নাই, কলকাতা, জয়পুর, রাজকোট, ভদোদরা, চণ্ডীগড়, আহমেদাবাদ, সুরাত এবং বেঙ্গালুরু শহরের গ্রাহকরা পাবেন। ভার্চুয়াল এবং ফিজিক্যাল কার্ড উভয়ের জন্যই অনলাইনে আবেদন করা যেতে পারে।

ফিনটেক লেন্ডার Rupeek-এরর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট দীপক সিংঘলের মতে, “বেতনভোগী কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা (যাঁরা স্বর্ণের মালিক) এই কার্ডটি জরুরি অবস্থায় ব্যবহার করার জন্য বেছে নিচ্ছেন। এছাড়াও, ছোট ব্যবসার মালিকরা এই কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন।”

Rupeek-এর ক্রেডিট কার্ড চার্জ

Rupeek-এর প্রাইম অন্য ক্রেডিট কার্ডের মতোই কাজ করে। এই কার্ডের ক্ষেত্রে অন্য ক্রেডিট কার্ডের মতো কোনও আবেদন ফি এবং বার্ষিক পুনর্নবীকরণ চার্জ লাগে না। কিন্তু সময়মতো বিল পরিশোধ না করার জন্য অতিরিক্ত সুদ দিতে হয়। গ্রাহকের বেছে নেওয়া স্কিম অনুযায়ী কার্ডটি ৩৭ বা ৪৫ দিন পর্যন্ত সুদ-মুক্ত ক্রেডিট সময় অফার করে। সুদ-মুক্ত ক্রেডিটের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর, প্রতি মাসে ২.৫ শতাংশ সুদ (৩০ শতাংশ বার্ষিক সুদ) দিতে হয়। এটি ক্রেডিট কার্ডের মতোই কাজ করে। গ্রাহকরা Rupeek-এর কোম্পানির এই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নগদ টাকাও (অনুমোদিত ক্রেডিট সীমার ১০০ শতাংশ) তুলতে পারে। নগদ তোলার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা স্থানান্তর করা হয়। তবে এর জন্য প্রক্রিয়াকরণ ফি চার্জ হিসেবে মোট অর্থের ১ শতাংশ টাকা কেটে নেওয়া হয়। সিংঘল আরও বলেন, সাধারণ ক্রেডিট কার্ডগুলি নগদ টাকা তোলার জন্য একটি উচ্চ প্রক্রিয়াকরণ ফি চার্জ নেয়।

গ্রাহকরা এই কার্ড কেন নেবেন?

কার্ডটি তাঁদের জন্য তৈরি করা হয়েছে যাঁরা একটি সাধারণ ক্রেডিট কার্ড নিতে পারেন না। ফিনলজি ভেঞ্চারসের (Finology Ventures) প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) প্রাঞ্জল কামরা বলেন, “এই কার্ডটি ব্যবহার করে এবং সময়মতো বকেয়া পরিশোধ করার মাধ্যমে, আপনি সহজেই একটি ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি করতে পারেন এবং ভবিষ্যতে একটি সাধারণ ক্রেডিট কার্ড বা একটি হোম লোন বা অটো লোন পেতে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারেন।”

যেহেতু সোনা বন্ধক রেখে গ্রাহকদের এই কার্ড প্রদান করা হয় ফলে আবেদন প্রক্রিয়া খুবই সহজ হয়। খুবই সহিজেই কার্ডের সাবস্ক্রিপশন পাওয়া যায় এবং বন্ধ করা যায়। সাধারণ ক্রেডিট কার্ডগুলি পাওয়ার আগে কার্ড কোম্পানিগুলি নিশ্চিত করে নেয় যে গ্রাহক সময়মতো তাদের বিল পরিশোধ করতে পারবে কিনা, সবদিক বিবেচনা করে তবেই আবেদনে অনুমোদন প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, Rupeek-এর পাইম কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রাহকের সোনা থাকলে তার ওপর ভিত্তি করেই গ্রাহকদের আবেদনে অনুমোদন প্রদান করে খুব কম সময়ে কার্ড দেওয়া হয়।

Rupay নেটওয়ার্কে থাকা সমস্ত স্টোর রুপিক প্রাইম কার্ড গ্রহণ করে। এছাড়া এটি অনলাইনে কেনাকাটা করার জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতি ২০০ টাকা খরচ করার জন্য, এক পয়েন্ট করে দেওয়া হয়। Rupeek-এ বন্ধক রাখা সোনা CMS, BRINKS এবং SIS-এ রাখা হয়। এটি স্টোরেজ খরচ বহন করে। Rupeek তার বন্ধক রাখা গয়না বা সোনা সাময়িকভাবে গ্রাহকদের ফেরত নেওয়ার অনুমতি দেয়, যেমন কোনও বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য। তবে গোল্ড কার্ডে ক্রেডিট সীমা সেই অনুযায়ী সামঞ্জস্য করা হয়। সিংঘল বলেন, “গ্রাহকদের তাদের অধিকার প্রয়োগ করার জন্য এবং ইস্যুকারী ব্যাঙ্কের সঙ্গে তাদের অভিযোগের সমাধানের জন্য আমরা একটি শক্তিশালী অভিযোগ এবং সহায়তা ব্যবস্থা স্থাপন করেছি।“ তিনি বলেন, “একজন গ্রাহক সর্বদা যেকোনও বৃদ্ধির জন্য আরবিআই-এর সমন্বিত ন্যায়পাল স্কিম ব্যবহার করতে পারেন।“

গ্রাহকদের কী কী বিষয় মাথায় রাখা উচিত?

অন্য ক্রেডিট কার্ডের মতো এই ক্ষেত্রেও সময়মতো পরিশোধ না করা বিলের উপর বার্ষিক ৩০ শতাংশ সুদ নেওয়া হয়। যদিও এই হার ৭-১২ শতাংশ গোল্ড লোনের হার থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। পারিজাত গর্গ, যিনি একজন ডিজিটাল ঋণ পরামর্শদাতা, তিনি বলেন যে এটি একটি অসুবিধা, কারণ একটি গোল্ড চালিত কার্ডে সুদের হার (APR) প্রায় সাধারণ ক্রেডিট কার্ডের সমান। যদি APR বেশি থাকে তবে এটি সীমিত গ্রাহকদের এই কার্ডের প্রতি আকৃষ্ট করবে। তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন যে “স্বল্প মেয়াদের জন্য ক্রেডিট পাওয়া (৩৫-৪৫ দিনের সুদমুক্ত সময়কাল) যুক্তিসঙ্গত, তবে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য এটি ব্যয়বহুল।“

সময়মতো বকেয়া পরিশোধ না করলে এটি প্রভাবিত করে ক্রেডিট স্কোরকেও। Rupeek-এর সবচেয়ে খারাপ দিক হল, কেউ পরিশোধ করতে না পারলে Rupeek বন্ধক রাখা সোনা নিলাম করতে পারে। তবে গ্রাহকদের অবশ্যই লোন নেওয়ার সময় নিশ্চিত করতে হবে যে ঠিক কত দিন পরে Rupeek বন্ধক রাখা সোনা বিক্রি করতে পারে। এবার জেনে নেওয়া যাক এই স্বর্ণচালিত কার্ডের জন্য কারা আবেদন করতে পারবে অথবা কাদের আবেদন করা উচিত।

কোন গ্রাহকদের সোনা রেখে লোনের নেওয়া উচিত?

যদি কোনও ব্যক্তি অসুরক্ষিত ক্রেডিট কার্ডের যোগ্য হন তবে তার সোনা আটকে রেখে সুরক্ষিত ক্রেডিট কার্ডের জন্য লোন নেওয়া উচিত নয়। কামরা বলেন, “এই কার্ডটি ভালো ক্রেডিট স্কোর সহ গ্রাহকদের জন্য নয়।“

এই কার্ডটি গ্রাহকের দীর্ঘমেয়াদী ক্রেডিট বা দীর্ঘমেয়াদী আকাঙ্খার পরিবর্তে অনেক রকমের সুবিধা দিয়ে থাকে। গর্গ সতর্ক করে বলেছেন, “এই কার্ডের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ কিনবেন না, যা আপনাকে আর্থিক সমস্যায় ফেলতে পারে।“

তিনি আরও বলেন, “বড় কিছু কেনাকাটার জন্য যেখানে আপনাকে কয়েক মাস ধরে অর্থ প্রদান করতে হবে, সেখানে যদি আপনাকে শেষ অবলম্বন হিসাবে ধার নিতেই হয়, তাহলে এর থেকে ভালো হবে আপনার সোনা সরাসরি একটি ব্যাঙ্ক বা NBFC, এমনকি Rupeek-এর কাছে বন্ধক রেখে গোল্ড লোন নেওয়া অথবা একটি সাধারণ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করুন, প্রয়োজনে বড় কেনাকাটাগুলিকে ইএমআইতে রূপান্তর করুন এবং তারপরে আপনার বিল সময়মতো পরিশোধ করুন।”

ফিনটেক লেন্ডার Rupeek

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থা Rupeek ২০২২ সালের শেষে দেশের মোট ১২০টি শহরে গ্রাহকদের সুবিধা প্রদান করা পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে সংস্থাটি বড় বড় মেট্রোপলিটন শহরগুলি ছাড়াও মোট ৩৫টি শহরে গ্রাহকদের ক্রেডিট কার্ড সহ অন্যান্য সুবিধা প্রদান করছে। এই কোম্পানি বাড়িতে এসে ঋণ প্রদানের পাশাপাশি দেশজুড়ে নতুন নতুন ব্রাঞ্চ অফিস খুলে গ্রাহকদের পরিষেবা প্রদান শুরু করেছে। ভারত সরকার দ্বারা নন-ব্যাঙ্কিং অর্থনৈতিক সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর কোম্পানিটি অন্যান্য ব্যাঙ্কের সাথে মিলে গ্রাহকদের ঋণের সুবিধা প্রদাব করছে।

কোম্পানির প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) সুমিত মানিয়ার বলে, “২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে দ্রুত গতিতে রুপিকের উন্নতি হয়। গোল্ড লোনের গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। আমরাই প্রথম ফিনটেক সংস্থা যারা ১ বিলিয়ন মাইলস্টোনে পৌঁছেছে।”

সংস্থার দাবি, বেশ কয়েকটি শহরে তাদের লোনের প্রক্রিয়া এতটাই সহজ যে গ্রাহকের ৪৫ মিনিটের মধ্যে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লোনের অর্থ পেয়ে যান।

Rupeek-এর প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী সংস্থাটি এখনও পর্যন্ত মোট ৬,৫০০ কোটি টাকার ঋণ প্রদান করেছে যার মধ্যে ৫৫ শতাংশে বেশি গ্রাহক প্রথমবারের মতো সোনা বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছেন।

First published:

Tags: Credit Card

পরবর্তী খবর