Bandhan Bank: বন্ধনের দুই দশক, মানুষের জীবনের রূপান্তর ঘটিয়ে সফল পথ চলা বন্ধনের

Bandhan Bank: বন্ধনের দুই দশক, মানুষের জীবনের রূপান্তর ঘটিয়ে সফল পথ চলা বন্ধনের

বন্ধন-কোন্নগর চালু হয়েছিল উন্নয়নমূলক অর্থনীতির দ্রষ্টা চন্দ্রশেখর ঘোষের এক সামান্য উদ্যোগ হিসাবে।

বন্ধন-কোন্নগর চালু হয়েছিল উন্নয়নমূলক অর্থনীতির দ্রষ্টা চন্দ্রশেখর ঘোষের এক সামান্য উদ্যোগ হিসাবে।

  • Share this:

    #কলকাতা: ২০তম বার্ষিকী পালন করছে বন্ধন। দুই দশক আগে পথ চলা শুরু৷ বন্ধন-কোন্নগর নামে এক এন জি ও থেকে একটা এনবিএফসি, এবং শেষ পর্যন্ত বন্ধন ব্যাঙ্ক নামে সর্বজনীন ব্যাঙ্কে রূপান্তরিত হয়েছে। বন্ধন-কোন্নগর এখনও একটা এনজি ও হিসাবে রয়েছে এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবিকা নির্বাহ, আর্থিক সচেতনতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রগুলোতে উন্নয়নমূলক উদ্ভাবনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

    বন্ধন-কোন্নগর চালু হয়েছিল উন্নয়নমূলক অর্থনীতির দ্রষ্টা চন্দ্রশেখর ঘোষের এক সামান্য উদ্যোগ হিসাবে। তিনি বিশ্বাস করতেন সামাজিক উন্নয়ন একমাত্র তখনই হওয়া সম্ভব যখন আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষ নিজেদের জন্য স্থিতিশীল জীবিকা নির্মাণের সুযোগ পাবেন এবং সেই উদ্যোগগুলোর সঙ্গে যুক্ত হবে সার্বিক উন্নয়ন।

    বন্ধনের উদ্যোগগুলো সার্বিকভাবে আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নকে মেলে ধরতে এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতিতে অনুঘটকের কাজ করার উদ্দেশ্য চালিত হয়। আজ বন্ধন ব্যাঙ্ক আর্থিক সমাধান করার কাজে লিপ্ত, আর বন্ধন-কোন্নগর বড় আকারে সামাজিক রূপান্তর ঘটানোর লক্ষ্যে চালিত একগুচ্ছ প্রকল্পের পরিচালনা করে। এই প্রকল্পগুলোর জেরে জনসমাজ ও জাতির উপর দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বন্ধন কোন্নগর বন্ধন ব্যাঙ্কের সিএসআর প্রয়োগকারী এজেন্সিও বটে।

    এখন বন্ধন-কোন্নগর ভারতের ১২টা রাজ্যে বিভিন্ন প্রকল্প চালায় এবং কর্মচারীর সংখ্যা ৩,০০০-এর বেশি। এই সংগঠন তার যাত্রায় ৩০ লক্ষের বেশি পরিবারের ভরসা অর্জন করেত পেরেছে৷ মাইক্রোক্রেডিট পোর্টফোলিওর মাধ্যমে বন্ধন ব্যাঙ্ক ১.৭০ কোটি মহিলাকে আর্থিক সাহায্য দিতে পেরেছে। তাঁরা এখন মাইক্রো-উদ্যোগী এবং সফলভাবে নিজেদের ব্যবসা চালাচ্ছেন।

    বন্ধন ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রশেখর ঘোষ বলেন “গত দুই দশকে দারুণ কাজ করতে পেরেছি আমরা। পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনে অর্থপূর্ণ বদল আনার সামান্য প্রয়াস হিসাবে যা শুরু হয়েছিল, তা এখন এক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আমাদের সর্বদাই লক্ষ্য ছিল বড় মাত্রায় কাজ করা৷  যদিও আমরা বিশ্বাস করি ক্ষুদ্রই সুন্দর, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে বৃহৎ আকার প্রয়োজন। সমস্ত বন্ধন টিমের সম্মিলিত প্রয়াসে আমরা লক্ষ লক্ষ পরিবারের জীবনে পরিবর্তন আনতে পেরেছি এবং সেটাই আমাদের সাফল্যের সত্যিকারের প্রমাণ। আমাদের যাত্রার দুই দশক পার হয়ে গিয়েছে, কিন্তু মনে হয় এই যেন সবে শুরু।”

    বন্ধন-কোন্নগরের২০তম বার্ষিকী এক ওয়েবিনারের মাধ্যমে পালন করা হয়। সেখানে বক্তা ছিলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং নোবেল জয়ী অধ্যাপক অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিখ্যাত ব্যবসায়ী সঞ্জীব পুরী, চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর, আই টি সি লিমিটেড ।তাঁরা আগামিদিনের উন্নয়নের এজেন্ডা সম্বন্ধে নিজেদের ভাবনা চিন্তা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন।

    এই উপলক্ষ্যে অধ্যাপক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন - " ২০০৬ সালে মিস্টার ঘোষের সাথে আলাপ হয় এবং আজ ১৫ বছর হল আমিব ন্ধনের সাথে যুক্ত I বন্ধন যেভাবে আজ এখানে পৌঁছেছে এবং যেভাবে এত সংখ্যক মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে তা ভাবলে সত্যি গর্ব বোধ করিI বর্তমানে বন্ধনের টি এইচ পি প্রোগ্রাম নিয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও ইউনাইটেড স্টেটস্ এর মত প্রতিষ্ঠানও এখন খুব উৎসাহীI আজ যে আমরা বিশ্বব্যাপী দারিদ্রের সাথে লড়াই করার একটি হাতিয়ার তৈরি করতে পেরেছি, তার জন্যে সমস্ত কৃতিত্ব বন্ধনের I"

    এই উপলক্ষ্যে শ্রী সঞ্জীব পুরী বলেন “গত দুই দশক ধরে বন্ধনের যাত্রা অসাধারণ। একটা প্রতিষ্ঠানের শুধু অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করাই উচিৎ তা নয়, সামাজিক উদ্দেশ্যও পূরণ করা উচিৎ। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে উন্নয়ন হওয়া উচিৎ স্থিতিশীল এবং সকলের জন্য। আর প্রগতির জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা উচিৎ। সংগঠনগুলোর অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও সামাজিক পুঁজিতে মনোনিবেশ করা উচিৎ। বন্ধন আর আই টি সি-র মত প্রতিষ্ঠানগুলো এ কথার চমৎকার উদাহরণ। এটা তাদের ডি এন এ-র ভিতর রয়েছে।”

    Published by:Pooja Basu
    First published: