ওজন কমাতে খাবার 'স্কিপ' করছেন? এতে কী হচ্ছে শরীরে...ভাবতেও পারবেন না! জেনে নিন চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা
- Published by:Tias Banerjee
Last Updated:
চটজলদি রোগা হতে অনেকেই কয়েকবেলার খাবার বাদ দিয়ে দেন। মিল স্কিপ করলে কি আদৌ ভাল হয় শরীরের? কী কী ক্ষতি হচ্ছে শরীরে জানালেন চিকিৎসকরা। সঠিক উপায় জানুন।
advertisement
1/9

ব্যস্ত জীবনে সবচেয়ে আগে বাদ যায় খাবারের সময়সূচি। সকালের জলখাবার বদলে যায় এক কাপ কফিতে, দুপুরের খাবার পিছিয়ে যায়, আর রাতের খাওয়া হয়ে ওঠে দেরিতে ও বেশি পরিমাণে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে ক্যালোরি কমছে। কিন্তু অনিয়মিত এই খাদ্যাভ্যাস শরীরের বিপাকীয় ভারসাম্য নীরবে নষ্ট করে। শক্তি কমে যায়, হঠাৎ মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে বাড়ে, রক্তে শর্করার ওঠানামা তীব্র হয়—যা ওজন কমানোর লক্ষ্য ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। (Representative Image: AI)
advertisement
2/9
দিল্লির এসসিওডি ক্লিনিকের ব্যারিয়াট্রিক ও মেটাবলিক সার্জন ডা. অরুশ সবরওয়ালের মতে, খাবার বাদ দেওয়া সহজ ক্যালোরি কমানোর উপায় বলে মনে হলেও বাস্তবে তা রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করে। দীর্ঘ সময় না খেলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয় এবং সঞ্চিত গ্লুকোজ মুক্তি পায়, ফলে পরে হঠাৎ শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। (Representative Image: AI)
advertisement
3/9
একই মত প্রকাশ করেছেন একই ক্লিনিকের ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন ও প্রোক্টোলজিস্ট ডা. মুস্তকিম খান। তাঁর কথায়, কী খাচ্ছেন তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ কখন খাচ্ছেন। খাবার বাদ দিলে বিশেষ করে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার অনিয়মিত বৃদ্ধি দেখা যায়। (Representative Image: AI)
advertisement
4/9
শরীর নিয়মিত পুষ্টি পেলে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। দীর্ঘ বিরতিতে খাবার না পেলে শরীর ‘সারভাইভাল মোড’-এ চলে যায়। ডা. সবরওয়াল জানান, দীর্ঘ সময় উপোস থাকলে শরীর স্ট্রেস হরমোন ছাড়ে এবং শক্তির ঘাটতি পূরণে সঞ্চিত গ্লুকোজ ব্যবহার করে। এতে স্থিতিশীল শক্তি নয়, বরং হঠাৎ শক্তি বৃদ্ধি ও দ্রুত পতনের চক্র তৈরি হয়। ফলে ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ ও অতিরিক্ত ক্ষুধা তৈরি হয়, যা অনেকেই সাধারণ অবসাদ ভেবে ভুল করেন। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস বিপাকক্রিয়া, ইনসুলিন প্রতিক্রিয়া ও ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। (Representative Image: AI)
advertisement
5/9
ব্যস্ততার কারণে সকালের খাবার অনেকেই বাদ দেন। অথচ সারারাত উপোস থাকার পর শরীরের প্রয়োজন হয় জ্বালানির। সকালের খাবার না খেলে দুপুরে অতিরিক্ত খাওয়া বা চিনি ও ক্যাফিনসমৃদ্ধ খাবারের দিকে ঝোঁক বাড়ে। সাময়িক শক্তি মিললেও পরে ক্লান্তি আসে, যা রোজকার ওঠানামার চক্র তৈরি করে। (Representative Image: AI)
advertisement
6/9
ডা. খান জানান, দিনে খুব কম খেলে অনেকেই রাতে বেশি খান, যার ফলে পরদিন সকালে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং শরীরে ভারী ভাব থাকে। খাবার দেরি হলে ক্ষুধা তীব্র হয়। তখন রাতের খাবার হয় বেশি পরিমাণে এবং দেরিতে, যখন শরীর বড় খাবার হজমে ততটা প্রস্তুত থাকে না। ডা. খানের মতে, নিয়মিত সময় মেনে খাওয়া রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অধিকাংশ মানুষের জন্য দিনে তিনটি প্রধান খাবার এবং এক বা দুইটি হালকা খাবার উপকারী। (Representative Image: AI)
advertisement
7/9
জলপানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ক্ষুধা দমাতে বারবার কফি বা চা খান, যা সাময়িকভাবে ক্ষুধা কমালেও রক্তে শর্করার ওঠানামা ও হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে। পর্যাপ্ত জলপান ও ঘরোয়া সাদামাটা খাবারই বেশি কার্যকর। (Representative Image: AI)
advertisement
8/9
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ক্যালোরি কমানোর বদলে নিয়মিত ও সুষম খাবার খাওয়াই উত্তম। ডিম-টোস্ট, দই-বাদাম, ডাল-রুটি বা সবজি স্যান্ডউইচের মতো ছোট ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা রোধ করে। নিয়মিত, পরিমিত খাবার শরীরের শক্তি বজায় রাখে, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে এবং অপ্রয়োজনীয় ক্ষুধা কমায়। (Representative Image: AI)
advertisement
9/9
সারকথা, স্বাস্থ্যকর খাওয়া শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। খাবার বাদ দেওয়া সাময়িকভাবে কার্যকর মনে হলেও শরীর সেটিকে শৃঙ্খলা নয়, চাপ হিসেবে গ্রহণ করে। সময়মতো সুষম খাবার রক্তে শর্করা স্থিতিশীল রাখে, বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখে এবং সারাদিন শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। অনেক সময় সবচেয়ে সহজ অভ্যাস—নিয়মিত সময়ে খাওয়া—সবচেয়ে কার্যকর স্বাস্থ্যরক্ষার উপায় হয়ে ওঠে। (Collected Image)
বাংলা খবর/ছবি/লাইফস্টাইল/
ওজন কমাতে খাবার 'স্কিপ' করছেন? এতে কী হচ্ছে শরীরে...ভাবতেও পারবেন না! জেনে নিন চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা