How Salt Is Made: রোজ রান্নায় দিতে লাগে নুন! বাংলার বুকে বৃহত্তম নুন তৈরি হয়, কী করে হয় এই নুন
- Reported by:Madan Maity
- Published by:Debalina Datta
Last Updated:
How Salt Is Made: রাজ্যের বৃহত্তম লবণ উৎপাদন কেন্দ্রে কীভাবে লবন তৈরি করা হয় জানুন
advertisement
1/6

লবণ ছাড়া রান্না যেন অসম্পূর্ণ। কিন্তু জানেন কি, পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম লবণ উৎপাদন কেন্দ্রে কীভাবে এই লবন তৈরি করা হয়। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির দাদনপাত্র বাড় পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম লবণ উৎপাদন কেন্দ্র। এখানে সমুদ্রের জল আর রোদের তাপ—এই দুইয়ের মিলনেই তৈরি হয় সাদা সোনা লবণ। বহু বছরের পুরনো এখানকার সল্ট ফ্যাক্টরি আজও প্রাচীন ও প্রচলিত পদ্ধতি মেনেই লবণ উৎপাদন করে। আধুনিক যন্ত্র কম, প্রকৃতির উপরই নির্ভর বেশি। আর সেই কারণেই এই লবণের স্বাদ ও গুণ আলাদা বলেই মনে করেন স্থানীয়রা। (তথ্য ও ছবি : মদন মাইতি)
advertisement
2/6
প্রতিবছর নভেম্বর মাস থেকে শুরু হয় লবণ তৈরির প্রস্তুতি। প্রথমে বড় বড় জমি পরিষ্কার করা হয়। এরপর সেই জমিতে সমানভাবে মাটি চাপা দিয়ে সমতল করা হয়। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে বাঁধ তৈরি করা হয়। যাতে সমুদ্রের জল নিয়ন্ত্রণ করে আনা যায়। ছোট ছোট খাঁড়ি বা চ্যানেল কেটে জল প্রবাহের ব্যবস্থা করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি খুবই শ্রমসাধ্য। স্থানীয় শ্রমিকরাই এই কাজের মূল ভরসা।
advertisement
3/6
ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মূল কাজ শুরু হয়। সমুদ্রের লোনা জল পাম্প বা জোয়ারের মাধ্যমে আনা হয় চৌবাচ্চায়। তারপর সেই জলকে একাধিক ধাপে ছোট ছোট ঘেরে ছাড়া হয়। প্রতিটি ঘেরে জল কিছুদিন করে রাখা হয়। সূর্যের তাপে ধীরে ধীরে জল বাষ্পীভূত হতে থাকে। জল শুকোতে শুরু করলে লবণের দানা জমতে থাকে। এই সময় নিয়মিত নজরদারি করা হয়, যাতে জল ঠিকমতো শুকোয় এবং দানাগুলো ভালভাবে তৈরি হয়।
advertisement
4/6
মার্চ থেকে এপ্রিল মাস লবণ সংগ্রহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তখন ঘেরের মাটিতে সাদা লবণের আস্তরণ পড়ে। শ্রমিকরা কাঠের তৈরি বিশেষ যন্ত্র দিয়ে সেই লবণ তোলেন। এরপর তা আলাদা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়। রোদে আরও শুকানো হয়। যাতে ভেতরের আর্দ্রতা পুরোপুরি চলে যায়। এই সময় আবহাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বৃষ্টি হলে পুরো প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
advertisement
5/6
মে মাস পর্যন্ত এই সংগ্রহ প্রক্রিয়া চলে। এরপর ধীরে ধীরে উৎপাদন কমে আসে। বর্ষা নামার আগে অধিকাংশ কাজ শেষ করতে হয়। কারণ বৃষ্টির জল এলে লবণের ঘের ভেঙে যেতে পারে। তাই জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় বন্ধ থাকে উৎপাদন। এই সময়ে শ্রমিকরা অন্য কাজ খোঁজেন। আবার নতুন মরশুমের অপেক্ষায় থাকেন। এভাবেই বছর ঘুরে আবার শুরু হয় লবণ তৈরির প্রস্তুতি।
advertisement
6/6
দাদনপাত্রবাড় লবণ উৎপাদন কেন্দ্রের এক কর্মী মধুসূদন দাস জানান, “আমরা বহু বছর ধরে এই কাজ করছি। পুরো প্রক্রিয়াটাই প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। রোদ ভাল হলে লবণ ভাল হয়। বৃষ্টি হলে ক্ষতি হয়। বছরে ন'মাস কাজ। আর তিন মাস বাড়িতে বসে থাকতে হয়। তবুও এই কাজের মধ্যেই আমাদের জীবিকা জড়িয়ে আছে।” প্রকৃতির দান আর শ্রমিকদের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই লবণ উৎপাদন শুধু শিল্প নয়, এক প্রাচীন ঐতিহ্য।কাঁথির লবণ ক্ষেত আজও সেই ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখে আমাদের জীবনে নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করছে।
বাংলা খবর/ছবি/লাইফস্টাইল/
How Salt Is Made: রোজ রান্নায় দিতে লাগে নুন! বাংলার বুকে বৃহত্তম নুন তৈরি হয়, কী করে হয় এই নুন