TRENDING:

Cancer Prevention: ক্যানসার 'সারলেও' মৃত্যুভয় পিছু ছাড়ে না, পরবর্তী সময়ের লড়াইটা আরও কঠিন! কীভাবে খেয়াল রাখতে হবে শরীরের

Last Updated:
ক্যানসার চিকিৎসার লক্ষ্য শুধু বেঁচে থাকা নয়, অর্থপূর্ণভাবে বেঁচে থাকা। চিকিৎসার পরবর্তী জীবনকে সমর্থন করা নৈতিক, চিকিৎসাগত ও সামাজিক দায়িত্ব।
advertisement
1/10
ক্যানসার 'সারলেও' মৃত্যুভয় পিছু ছাড়ে না,পরবর্তী লড়াইটা আরও কঠিন! কীভাবে খেয়াল রাখবেন
ভারতে ক্যানসারের গল্প আজ বদলের পথে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, বহুমুখী চিকিৎসা পদ্ধতির অগ্রগতি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে আগের তুলনায় অনেক বেশি ক্যানসার রোগী আজ বেঁচে আছেন। ধীরে ধীরে বাড়ছে সারভাইভাল রেট, তৈরি হচ্ছে এক বড় ক্যানসার সারভাইভার জনগোষ্ঠী। জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিতে এটি নিঃসন্দেহে এক সাফল্যের কাহিনি। তবে এই সাফল্যের সঙ্গেই উঠে আসছে এক গুরুতর চ্যালেঞ্জ—ক্যানসার চিকিৎসার পরবর্তী জীবনের যত্ন, যা এখনও পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। ডা. আশুতোষ দাগা, কনসালট্যান্ট মেডিক্যাল অনকোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া জানালেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য৷
advertisement
2/10
সারভাইভারশিপ মানেই যাত্রার শেষ নয়-অনেকের ধারণা, ক্যানসার থেকে বেঁচে যাওয়াই শেষ লক্ষ্য। বাস্তবে সারভাইভারশিপ একটি আলাদা ও কঠিন পর্যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ ক্যানসার সারভাইভার চিকিৎসার দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভোগেন—যেমন দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, ব্যথা, নার্ভের সমস্যা, হৃদ্‌রোগজনিত জটিলতা, হরমোনজনিত অসামঞ্জস্য এবং স্মৃতিশক্তি বা মনোযোগের সমস্যা।
advertisement
3/10
ভারতীয় প্রেক্ষাপটে বিশেষ চ্যালেঞ্জ-ভারতে সারভাইভারশিপের সমস্যাগুলি আরও তীব্র। বহু সারভাইভার আর্থিকভাবে দুর্বল পটভূমি থেকে আসেন এবং পুনর্বাসন পরিষেবার সহজলভ্যতা তাদের জন্য সীমিত। সক্রিয় চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর নিয়মিত হাসপাতাল ভিজিট থেকে হঠাৎ এক ধরনের ‘চিকিৎসাগত নিঃসঙ্গতা’-য় চলে যাওয়া মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপের। ক্যানসার ফিরে আসার ভয়, অনিদ্রা, অবসাদ এবং নতুন কোনও উপসর্গ মানেই রোগের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা—এগুলি অত্যন্ত সাধারণ অভিজ্ঞতা।
advertisement
4/10
অবমূল্যায়িত মানসিক স্বাস্থ্যের বোঝা- ভারতে ক্যানসার সারভাইভারদের মানসিক স্বাস্থ্য এখনও সবচেয়ে কম আলোচিত বিষয়গুলির একটি। ভারতীয় ক্যানসার জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সারভাইভার উল্লেখযোগ্য মানসিক সমস্যায় ভোগেন। অথচ সাইকো-অনকোলজি পরিষেবা বিশেষ করে শহরের বাইরে অত্যন্ত সীমিত। এর সঙ্গে মানসিক অসুস্থতা নিয়ে সামাজিক কুসংস্কারও অনেককে সাহায্য চাইতে নিরুৎসাহিত করে।
advertisement
5/10
সমাজ ও কর্মজীবনে পুনরায় ফিরে আসা- সারভাইভারশিপ কেবল শারীরিক সুস্থতায় সীমাবদ্ধ নয়; সামাজিক ও পেশাগত জীবনে পুনঃপ্রবেশও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা, মানসিক ক্লান্তি, চিকিৎসাজনিত দৃশ্যমান পরিবর্তন এবং কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কাজে ফেরা অনেকের পক্ষেই কঠিন। মহিলা সারভাইভারদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্ব, অকাল মেনোপজ, শরীর-ভাবনা এবং পারিবারিক দায়িত্বের চাপ বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করে। শিশু ও কিশোর সারভাইভারদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাগত, স্নায়ুবৈকল্যজনিত এবং সামাজিক সমস্যাগুলি তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
advertisement
6/10
কাঠামোবদ্ধ সারভাইভারশিপ কেয়ার প্ল্যানের গুরুত্ব-এই পর্যায়ে কাঠামোবদ্ধ সারভাইভারশিপ কেয়ার প্ল্যানের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বজুড়ে সারভাইভারশিপ কেয়ারকে সমন্বিত ক্যানসার চিকিৎসার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এতে রোগ পুনরাবৃত্তি ও দ্বিতীয় ক্যানসার শনাক্তে ফলো-আপ, দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার চিকিৎসা, শারীরিক পুনর্বাসন, পুষ্টি পরামর্শ, মানসিক সহায়তা এবং জীবনযাপনের দিকনির্দেশ অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রমাণ বলছে, চিকিৎসার পর নিয়মিত যত্ন পাওয়া সারভাইভারদের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ, জীবনমান এবং আত্মবিশ্বাস উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।
advertisement
7/10
আজ ভারতের অবস্থান-ভারতে সারভাইভারশিপ কেয়ার এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও কয়েকটি একাডেমিক ক্যানসার সেন্টার—বিশেষত শিশু সারভাইভারদের জন্য—দীর্ঘমেয়াদি ফলো-আপ ক্লিনিক চালু করলেও এগুলি ব্যতিক্রম হিসেবেই রয়ে গেছে। ভারতীয় গবেষণায় দেখা যায়, ২০ শতাংশেরও কম ক্যানসার সারভাইভার নিয়মিত মেডিক্যাল ফলো-আপের বাইরে কাঠামোবদ্ধ পরবর্তী চিকিৎসা পান। জাতীয় স্তরে মানসম্মত সারভাইভারশিপ গাইডলাইনের অভাব এই অসম ও খণ্ডিত ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
advertisement
8/10
জীবনচক্রভিত্তিক ক্যানসার কেয়ারের দিকে অগ্রসর হওয়া- সারভাইভারশিপকে মূলধারার অনকোলজি চর্চায় অন্তর্ভুক্ত করা এখন আর ঐচ্ছিক নয়। চিকিৎসা-কেন্দ্রিক মডেল থেকে রোগী-কেন্দ্রিক, জীবনচক্রভিত্তিক কেয়ারে রূপান্তর জরুরি। অনকোলজিস্টদের প্রাইমারি কেয়ার চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট, মনোবিজ্ঞানী, পুষ্টিবিদ ও সমাজকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করতে হবে, যাতে সারভাইভারদের সব দিকের প্রয়োজন পূরণ হয়। ক্যানসার নির্ণয়ের সময় থেকেই সারভাইভারশিপ পরিকল্পনা শুরু হওয়া উচিত—শুধু রোগের সঙ্গে লড়াই নয়, তার পরের জীবনের জন্যও প্রস্তুতি হিসেবে।
advertisement
9/10
জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির অপরিহার্য দিক-জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক—দুই দৃষ্টিকোণ থেকেই সার্বিক সারভাইভারশিপ কেয়ার অপরিহার্য। যথাযথ পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা পেলে সারভাইভাররা দ্রুত কর্মক্ষম জীবনে ফিরতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যব্যয় ও সামাজিক বোঝা কমায়। ভারতে সারভাইভারদের সংখ্যা যত বাড়ছে, এই পর্যায়কে উপেক্ষা করলে অপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক চাহিদার এক নীরব সংকট তৈরি হবে।
advertisement
10/10
ক্যানসার কেয়ারের সাফল্যের নতুন সংজ্ঞা-বিশ্ব ক্যানসার দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ক্যানসার চিকিৎসার লক্ষ্য শুধু বেঁচে থাকা নয়, অর্থপূর্ণভাবে বেঁচে থাকা। চিকিৎসার পরবর্তী জীবনকে সমর্থন করা নৈতিক, চিকিৎসাগত ও সামাজিক দায়িত্ব। অনকোলজির প্রকৃত সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে শুধু নিরাময়ের হার দিয়ে নয়, বরং সারভাইভারদের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও জীবনমান কতটা পুনরুদ্ধার করতে পারলাম তার মাধ্যমে।
বাংলা খবর/ছবি/লাইফস্টাইল/
Cancer Prevention: ক্যানসার 'সারলেও' মৃত্যুভয় পিছু ছাড়ে না, পরবর্তী সময়ের লড়াইটা আরও কঠিন! কীভাবে খেয়াল রাখতে হবে শরীরের
স্বাস্থ্য এবং লাইফস্টাইলের (Lifestyle News in Bengali)সব খবরের আপডেট পান নিউজ 18 বাংলাতে ৷ যেখানে থাকছে হেলথ টিপস, বিউটি টিপস এবং ফ্যাশন টিপসও ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং টপ হেডলাইনগুলি অনলাইনে নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিতে ৷ এর পাশাপাশি ডাউনলোড করুন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস-এ সব খবরের আপডেট পেতে ! News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Advertisement
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল