নয়াদিল্লি: দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ৷ সুপ্রিম কোর্টে প্রথমবার সওয়াল কোনও মুখ্যমন্ত্রীর ৷ SIR-সংঘাতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৷ নিজের করা মামলায় নিজেই সওয়াল তৃণমূলনেত্রীর ৷ এর আগে কোনও মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেননি ৷ মমতাই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী যিনি সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করলেন ৷ আবেদনকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, ‘‘আমি কি একটু ব্যাখ্যা করতে পারি?’’ আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি এই রাজ্যের মানুষ। আপনাদের সদয়, তাই আজ এখানে উপস্থিত হতে পেরেছি। বেঞ্চের প্রতি আমার শ্রদ্ধা, বিরোধী পক্ষের আইনজীবীদের প্রতিও আমার নম্র প্রণাম জানাচ্ছি।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন সবকিছু শেষ হয়ে যায়, অথচ ন্যায় মেলে না। যখন ন্যায় দরজার আড়ালে কাঁদে—তখনই মনে হয়, কোথাও আমরা ন্যায় পাচ্ছি না। আমি খুবই নগণ্য একজন মানুষ। আমি এখানে আমার দলের জন্য লড়ছি না।’’

সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ফের সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি। দুই পক্ষকে নোটিস। কী কী পদক্ষেপ করছে কমিশন, জানাতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এসআইআর প্রক্রিয়ায় কত অফিসার দিতে পারবে রাজ্য, জানাতে হবে নবান্নকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ইআরও-র কোনও ক্ষমতা নেই। রোল পর্যবেক্ষক বিজেপিশাসিত রাজ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। অনেকে জীবিত রয়েছেন। মাইক্রো অবজার্ভার নাম মুছে দিচ্ছেন। প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, আমরা এই বিষয়ে নির্দেশ দেব ৷
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আপনারা আধার কার্ড নিতে বলেছিলেন। কিন্তু নেওয়া হয়নি। অন্য নথি চাওয়া হয়েছে। ১০০ জনের বেশি মারা গিয়েছেন। ভাবতে পারেন। বাংলাকে টার্গেট করা হয়েছে কেন অসমে করা হয়নি?’’
বিএলও, এইআরও, ইআরও-দের কোনও ক্ষমতা নেই। বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে আধিকারিক আনা হচ্ছে। একটাই সমস্যা— তাঁরা কোনও নথি গ্রহণ করছেন না। কমিশন এসব করছে ৷ বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷
শুনানি চলাকালীন নিজে বলার জন্য অনুমতি চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্জুর করলেন প্রধান বিচারপতি। ৫ মিনিট বলার অনুমতি চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী । প্রধান বিচারপতি বললেন, “৫ মিনিট কেন? আপনি ১৫ মিনিট বলতে পারেন, তাতে অসুবিধা নেই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মামলায় আইনজীবীরা সওয়াল করছেন।”
এসআইআর মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি। ২০০২-এ ম্যাপিং না থাকা ভোটারদের আরও একবার সুযোগ দিতে হবে। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি থেকে সরিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। বানান ভুলের জন্য লজিকাল ডিসক্রিপেন্সিতে ৭০ লক্ষ মানুষকে নোটিস। বানান ভুল সংশোধনের জন্য হাতের কাছে থাকা নথির সাহায্য নেওয়া হোক। কী কারণে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায়, কমিশনকে তা জানাতে হবে। আইনি বৈধতা ছাড়া নিয়োগ করা মাইক্রো অবজার্ভারদের তুলে নেওয়া হোক। ERO-দের কাজে হস্তক্ষেপ করা থেকে মাইক্রো অবজার্ভারদের বিরত করা হোক। মাইক্রো অবজার্ভারদের নেওয়া সব সিদ্ধান্ত বেআইনি ঘোষণা করতে হবে ৷ আর্জি মমতার।
শুনানিতে আইনজীবীদের সঙ্গে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শীর্ষ আদালতে সওয়াল করছেন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানি করা হোক। এই আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। অন্য মামলার শুনানি চলাকালীন দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এক আইনজীবী।



