খেজুরির এই গ্রামেরই বাসিন্দা গঙ্গাধর দাস। গ্রামের উন্নয়ন থেকে নানা সামাজিক কাজকর্ম, সবেতেই তিনি নিজেকে জড়িয়ে রাখতেন। উপকারী গঙ্গাধর দাসের গ্রেফতার এবং গোডাউন পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় মন ভাল নেই গ্রামের মানুষজনের। মন খারাপ সকলের তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পাড়ার সরস্বতী পুজোর মেলা আর উৎসব। আনন্দপুরের গোডাউনে আগুনে পুড়ে যাওয়া মৃতদের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাসের মুক্তিরও অপেক্ষা করছেন এই গ্রামের মানুষজন।
advertisement
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরির পূর্বচড়া গ্রাম থেকে দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে ফুলের দোকানে কাজ করতেন দৈনিক শ্রমিক হিসেবে। ৪০ বছর আগে কলকাতায় পাড়ি দিয়েছিলেন গঙ্গাধর দাস। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে তার উত্থান। কলকাতায় নিজের ডেকোরেটার্স ব্যবসা চালু করেন গঙ্গাধর দাস। ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে কলকাতায় থেকে থেকে তার ব্যবসায় রমরমা। ফুলের কাজে তার সুনাম শুধু রাজ্যে নয় ভিন রাজ্যেও রয়েছে।
সরকারি কিংবা ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান, সব জায়গায় তার কাজের প্রশংসা হয়ে আসছে। নিজের গ্রামে মানুষের বিপদে-আপদে তিনি ভরসা দিয়ে এসেছেন। গ্রাম কমিটির সভাপতি থেকে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মকর্তা পদে আছেন তিনি। কারুর মেয়ের বিয়েতে অর্থ সাহায্য কিংবা গ্রামের উন্নয়নে আর্থিক সহযোগিতা একডাকে আসতেন গঙ্গাধর। খেজুরির বিভিন্ন জায়গায় সামাজিক উন্নয়নে নির্দ্বিধায় আর্থিক সহযোগিতা করতেন তিনি।
নিজের গ্রামে গড়ে তুলেছেন বেসরকারি স্কুল, বিএড কলেজ, পাবলিক স্কুল, মন্দির-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠান। তিনি ৫০০-র বেশি মানুষের দৈনিক কর্মসংস্থান দিতেন। মানুষের বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ান যিনি, সেই গঙ্গাধর দাস যে নিজে এত বড় বিপদে পড়ে যাবেন ভাবতে পারছেন না গ্রামের মানুষজন। তাদের বিশ্বাস আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা একটি নিছক দুর্ঘটনা।
যেহেতু তিনি মালিক তাই তার ঘাড়ে দায়ভার এসে পড়েছে। তার এত বড় ক্ষতি হতে পারে ভাবতে পারছেন না গ্রামের কেউই। দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে গঙ্গাধর দাস দাঁড়াবেন এ বিশ্বাস তাদের আছে। গঙ্গাধর দাসের মুক্তির অপেক্ষায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে গোটা গ্রামের।
