চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন৷ আর তার ঠিক আগেই রাজ্যে চলছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া অর্থাৎ এসআইআর৷ আর এসআইআর আবহে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাওয়া নিয়ে আশঙ্কায় ভুগছেন মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশ৷ এদিন মতুয়া গড়ে অমিত শাহের সভা থাকায়, এ বিষয়ে তিনি কী বার্তা দেন, সেদিকে নজর ছিল সকলের৷ অবশেষে এল সেই বার্তা৷
advertisement
এদিনের সভা থেকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনী জয় নিয়েও আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেন শাহ৷ বলেন, ‘‘বাংলার মানুষকে বলব একবার বিজেপিকে সুযোগ দিন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসন দুর্নীতিকে প্রতিষ্ঠা করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন দুর্নীতি কোথায়। বলতে চাই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি পূর নিয়োগ দুর্নীতি আবাস দুর্নীতি রেশন দুর্নীতি বহু দুর্নীতি হয়েছে।’’
অমিত শাহ বলেন, ‘‘২০২১-এ (বিধানসভা নির্বাচনে) ৭৭টি আসন নিয়ে বিজেপি বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় রাজ্যে। বিরোধী দলনেতা হন শুভেন্দু অধিকারী৷ এবার আগামী নির্বাচনে সেই ৩৯% ভোটকে ৪৫ % করতে হবে আপনাদের।’’ শাহের বার্তা, বিহার, দিল্লিতে বিরাট জনমত নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। ২০২৬-এ কেরালে ও মুম্বইয়ে পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি ভাল ফল করেছে। অমিত শাহের মন্তব্য, ‘‘মা মাটি মানুষের কথা বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসেছিল। আর এখন মহিলাদের নিরাপত্তা নেই । মাটি অনুপ্রবেশকারীদের দখলে । মানুষের নিরাপত্তা নেই । মা মাটি মানুষের রক্ষা করতে হলে বাংলায় বিজেপির সরকার দরকার।’’
এদিনের মঞ্চ থেকে অনুপ্রবেশ নিয়েও সরব হন শাহ৷ বলেন, ‘‘বাংলায় এবার সরকার তৈরি, শুধু এরাজ্যের জন্য জরুরি নয়। এরাজ্যে যেভাবে অনুপ্রবেশ চলছে, তার জন্য শুধু এরাজ্যের না, গোটা দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। অনুপ্রবেশ বন্ধ করা দরকার কি না। মমতা দিদি বলেন কেন্দ্র সরকার দায়ী। বর্ডারের ফেন্সিং -এর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার জমি দেয় না৷ তাই পুরো কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্ডার থেকে ঢোকে অনুপ্রবেশকারী। আর এরাজ্যের পুলিশ প্রশাসন সরকারের লোক জাল নথি বানিয়ে দেয়। হাইকোর্ট ও বিএসএফ-এর স্বপক্ষে কথা বলেছে বর্ডারের কাঁটাতার দেওয়ার ব্যাপারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও জমি দেয়নি৷ কারণ অনুপ্রবেশকারী তাদের ভোট ব্যাঙ্ক। এপ্রিলের শেষে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে৷ ৪৫ দিনের মধ্যে বর্ডারে জমি নিয়ে কাঁটাতার লাগিয়ে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে।’’
