এক সময় বেঁচে থাকার তাগিদে হাতে তুলে নিতে হয়েছিল রং ও তুলি। আজ সেই তুলি-রঙই বহু পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। সকাল হলেই বাড়ির উঠোনে বা কর্মশালায় বসে পড়েন শিল্পীরা। ভেষজ উপায়ে তৈরি প্রাকৃতিক রং সাজিয়ে সাদা কাগজ, কাপড় কিংবা বিভিন্ন উপকরণের উপর ফুটিয়ে তোলেন নানান চিত্রকল্প। লাল, নীল, হলুদ, সবুজের মেলবন্ধনে যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে গল্প ও ইতিহাস।
advertisement
নয়া গ্রামের পটশিল্পীরা শুধু ঐতিহ্যবাহী পুরাণকাহিনি নয়, সমাজের নানা বাস্তব ঘটনাও তুলে ধরেন তাদের ছবিতে। সামাজিক সচেতনতা, পরিবেশ রক্ষা, নারীশক্তি, এমনকি সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনাও স্থান পায় পটচিত্রে। রঙের মাধ্যমে তারা বলেন গল্প, গেয়ে শোনান পটের গান। ফলে শিল্প এখানে শুধু দৃশ্যমান শিল্প নয়, এক বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি।
বসন্তে যখন দেশজুড়ে দোলের উৎসব, তখন নয়া গ্রামে সেই আনন্দ আরও রঙিন হয়ে ওঠে। তবে এই গ্রামে উৎসবের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না নির্দিষ্ট দিনের। সারা বছরই বাড়ির নারী-পুরুষ সকলেই ব্যস্ত থাকেন পট আঁকায়। শিশুদের হাতেও ধরা পড়ে রঙিন তুলির ছোঁয়া। শিল্প যেন এখানে প্রজন্মান্তরে প্রবাহিত এক উত্তরাধিকার।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বর্তমানে দেশ-বিদেশে নয়া গ্রামের পটচিত্রের কদর বেড়েছে। প্রদর্শনী, কর্মশালা ও অনলাইন বিপণনের মাধ্যমে শিল্পীরা তাদের কাজ পৌঁছে দিচ্ছেন বৃহত্তর বাজারে। ফলে এই প্রাচীন শিল্প নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। পিংলার নয়া গ্রামে তাই প্রতিদিনই রঙের উৎসব চলে। যেখানে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির মিলনে রচিত হয় জীবনের ক্যানভাস।





