পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নারায়ণগড় ব্লকের পঁচাশবেটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ৬৮ বছরের একাদশ পাত্র। ছোটবেলা থেকেই গান-বাজনার প্রতি তাঁর গভীর টান ছিল। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২০-২২ বছর। সেই সময় তবলিয়ার পাশে বসে তাল-লয়ের পাঠ নিতেন। কখনও দেখে দেখে, কখনও আবার নিজের মনের মতো করে শিখে নেন বিভিন্ন পার্কাসন বাজানো। কোনও প্রথাগত তালিম ছাড়াই ধীরে ধীরে এই শিল্পে দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। চাকরি জীবনের পাশাপাশি চালিয়ে যেতে থাকেন শিল্পচর্চা।
advertisement
এক সময় এই পার্কাসন যন্ত্রের চাহিদা ছিল খুব বেশি। সেই সময় একাদশবাবু বহু মঞ্চে শিল্পীদের সঙ্গে গানের আবহ তৈরি করেছেন। এলাকার নামী শিল্পীদের সঙ্গে একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের শিল্প প্রতিভা দেখিয়েছেন। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র একসঙ্গে বাজিয়ে গানে এক আলাদা মাত্রা যোগ করতেন তিনি।
পেশাগতভাবে বিএলআরও দফতরে চেইন ম্যান হিসেবে কাজ করতেন একাদশবাবু। চাকরির পাশাপাশি শিল্পচর্চাও সমানভাবে চালিয়ে গিয়েছেন এই শিল্পী। এখন বয়সের ছাপ স্পষ্ট হলেও সেই আগ্রহ কমেনি। এখনও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীদের সঙ্গে গানের আবহ তৈরি করতে দেখা যায় তাঁকে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অক্টোপ্যাডেই একসঙ্গে বহু যন্ত্রের শব্দ তৈরি করা যায়। কিন্তু একাদশবাবু এখনও প্রায় তিরিশের বেশি পার্কাসন যন্ত্র হাতে বাজান। ম্যানুয়ালি এই সব যন্ত্র বাজিয়ে তাঁর তৈরি সুর গানে আলাদা প্রাণ এনে দেয়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
ছোটবেলায় দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন একাদশ পাত্র। ঘরে শিল্পচর্চার পরিবেশ না থাকলেও নিজের আগ্রহ ও অধ্যাবসায়ে এই শিল্প শিখেছেন তিনি। তাঁর আক্ষেপ, নতুন প্রজন্ম আর এই বিশেষ বাদ্যযন্ত্র শিখতে আগ্রহ দেখায় না। তবুও তাঁর বিশ্বাস, যতদিন পারবেন ততদিন এই পার্কাসনের সুর বাঁচিয়ে রাখবেন। প্রবীণ শিল্পীর এই নিষ্ঠা ও ভালবাসাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন এলাকার মানুষ।






