শুক্রবার সকালে জেলায় ভোটার সচেতনতা অভিযান আয়োজিত হয়। প্রায় ২৫০ জনকে নিয়ে সাগরদিঘির চারপাশে একটি র্যালি হয়। সেই র্যালির সামনে ছিলেন জেলার ভোটের আইকন ‘শ্রীচরণেষু’ বিষ্ণু বর্মণ।
advertisement
জানা যায়, বিষ্ণুর মা-বাবা করণদিঘির একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। মা-বাবার সঙ্গে তিনিও সেখানেই থাকতেন। ওখানে ঘটা এক দুর্ঘটনাতেই মাত্র ৯ বছর বয়সে দু’হাত খোয়ান বিষ্ণু। পাম্পসেট মেশিনে আটকে যাওয়া জামা বের করতে গিয়ে কাটা পড়ে তাঁর দুই হাত।
এই দুর্ঘটনার পর করণদিঘি ছেড়ে শীতলকুচির গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসে বিষ্ণুর পরিবার। এরপর শুরু হয় তাঁর লড়াই। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য পদে পদে ধাক্কা পেলেও দমে যাননি বিষ্ণু। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। যদিও আর্থিক অনটনের জন্য স্নাতক পাশ করা হয়নি।
গ্র্যাজুয়েশনের আগেই সংসারের হাল ধরতে পড়াশোনা ছেড়ে দেন বিষ্ণু। মা-বাবার সঙ্গে অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করা শুরু করেন। এখনও পা দিয়ে যতখানি সম্ভব স্ত্রীকে চাষের কাজে সাহায্য করেন বছর ২৭-এর এই যুবক। তাঁর লক্ষ্য, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে ছাপিয়ে জীবনে এগিয়ে যাওয়া।
জানা যায়, বিষ্ণু পা দিয়ে সব কাজ করেন বলে বন্ধুরা তাঁকে মজা করে ‘শ্রীচরণেষু’ বলে ডাকেন। যদিও তাতে তাঁর কোনও রাগ অথবা অভিমান নেই। সহজভাবেই জানান, দুই পা না থাকলে তো কিছুই করা হত না।
পা দিয়ে অন্যান্য সব কাজের পাশাপাশি ভোটও দেন বিষ্ণু। তাঁর কথায়, তিনি যদি নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজেই নিজের ভোট দিতে পারেন। তাহলে বাকিরাও পারবেন। দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এটাই সকলের কর্তব্য।
