শিশুর বাঁকা এবং বিকৃত পা-কে ‘ক্লাবফুট’ বলা হয়। অনেক শিশুর জন্মের সময় একটি বা দু’টি পা ভিতরের দিকে বাঁকা থাকে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে ভবিষ্যতে হাঁটাচলা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সমস্যা তৈরি হতে পারে। প্রতি হাজার নবজাতকের মধ্যে ১-২জন এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু প্রথম থেকে চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ সারিয়ে তোলা সম্ভব।
advertisement
একসময় সচেতনতার অভাবে প্রত্যন্ত এলাকার রোগীরা এই রোগ সরানো সম্ভব নয় বলে মনে করতেন। সেই কারণে অনেকে চিকিৎসার জন্য শিশুকে হাসপাতালে নিয়েই যেতে চান না। ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে অনেকেই এই রোগের চিকিৎসার জন্য শিশুকে নিয়ে আসেন। কিন্তু বাইরে এই চিকিৎসা করাতে খরচ হতে পারে মোটা টাকা। কারণ এই রোগের চিকিৎসায় শিশুর পায়ে ৫-৬ বার প্লাস্টার করতে হয়। এছাড়াও একটি অপারেশনও করতে হয়। এর পাশাপাশি প্রতি ২-৩ মাস অন্তর পাল্টাতে হয় বিশেষ ধরনের জুতো। সব মিলিয়ে প্রায় খরচ লাখের কাছাকাছি। কিন্তু এই চিকিৎসাই এখন বিনামূল্যে আসানসোল জেলা হাসপাতালে হচ্ছে।
আসানসোল জেলা হাসপাতালে বিনামূল্যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পনসেটি মেথডে ক্লাবফুটের চিকিৎসা হয়। গত ১০ বছরে প্রায় সাড়ে তিনশো শিশুর বাঁকা এবং বিকৃত পা সোজা করেছে এই হাসপাতাল। আসানসোল জেলা হাসপাতালের অস্থি বিভাগের চিকিৎসকদের চ্যালেঞ্জ ছিল, জন্মের পর ক্লাবফুটে আক্রান্ত শিশুদের সঠিক চিকিৎসায় মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে হবে।
হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন নির্ঝর মাজি বলেন, প্রতি হাজার নবজাতকের মধ্যে অন্তত ১-২ জন এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়। ২০১৬ থেকে পনসেটি মেথডেই আসানসোল জেলা হাসপাতালে এই রোগের চিকিৎসা চলছে। জটিল বড় অস্ত্রোপচার ছাড়া ধাপে ধাপে এই রোগের চিকিৎসা করা হয়। সাধারণত পাঁচ সপ্তাহ ধরে নিয়মিত প্লাস্টার পরিবর্তন করা হয়। এরপর একটি ছোট টেনোটমি করা হয়। লোকাল অ্যানাস্থেশিয়া দিয়েই শিশুটির পায়ের পিছনে শিরার উপর অস্ত্রোপচার করা হয়। সবশেষে পা সোজা করতে বিশেষ ব্রেস বা জুতো পরানোর জন্য দেওয়া হয়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
চিকিৎসক জানান, এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে বেশ কয়েকমাসের মধ্যেই শিশুর পা ধীরে ধীরে সোজা হতে শুরু করে। জন্মের পর যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, ততই ভাল ফল পাওয়া যায়। এইসব কারণে বর্তমানে জেলার পাশাপাশি জেলার বাইরে থেকেও বহু মানুষ ক্লাবফুট চিকিৎসার জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে আসেন।






