পূর্বস্থলীর পাটুলিতে অবস্থিত এই নলেন গুড়ের বাজার দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ বাজার হিসেবে পরিচিত। রাত যত বাড়ে, ততই ভিড় জমতে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, এখন এই বাজার থেকে নলেন গুড় যাচ্ছে গুজরাট, অসম-সহ একাধিক রাজ্যে।
advertisement
গুড় ব্যবসায়ী এসার দফাদার বলেন, “আমাদের এটা অনেক বড় একটা বাজার। এখান থেকে গুড় বহু দূর দূর পর্যন্ত যায়, এমনকি বিদেশেও যায়।” চলতি মরশুমে হাড় কাঁপানো শীতের কারণে খেজুর গাছে রসের পরিমাণ বেড়েছে। ফলে গুড়ের উৎপাদনও ভাল হয়েছে। এতে খুশি বিক্রেতারা। তবে চাহিদা ও গুণমান ভাল হওয়ায় এবছর গুড়ের দামও কিছুটা বেড়েছে। এই বাজারে প্রায় ৪০টি পাইকারি আড়ত রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে বহু ব্যবসায়ী এখানে গুড়ের পাইকারি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ কুইন্টাল নলেন গুড় কেনাবেচা হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, পাশ্ববর্তী নদিয়া জেলা থেকেও শিউলি বা গুড় প্রস্তুতকারকেরা এখানে গুড় নিয়ে আসেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আগে এই বাজারটি ছিল ব্যান্ডেল-কাটোয়া শাখার পাটুলি স্টেশনের কাছে। তবে রেলের তরফে অস্থায়ী বাজার সরিয়ে দেওয়ার পর বর্তমানে কিষান মান্ডির পিছনে এই বাজারটি স্থানান্তরিত হয়েছে। এখানে মূলত তিন ধরনের নলেন গুড় বিক্রি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে উন্নত মানের গুড়ের দাম কেজি প্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যেও বিভিন্ন মানের নলেন গুড় পাওয়া যায়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
গুড় ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বর দফাদার জানান, “গাড়ি করে লোড হয়ে আমাদের এখান থেকে গুড় যায়। তবে সব থেকে বেশি ট্রেনে করে যায়। এটা বহু দিনের পুরানো ব্যবসা।” পাটুলির এই পাইকারি বাজার থেকে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত এবং ভিন রাজ্যেও বিপুল পরিমাণে নলেন গুড় সরবরাহ করা হয়। যে পরিমাণ গুড় এখান থেকে উৎপাদিত ও সরবরাহ হয়, তাতে রাজ্যের একটি বড় অংশের চাহিদা পূরণ হয়। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ এই বাজার আজও তেমনভাবে নজরের বাইরে রয়ে গিয়েছে, এটাই আফসোসের বিষয় বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।





