স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চোর সন্দেহে তাড়া করে এলাকাবাসী, অজ্ঞাতপরিচয় ওই দুই বাইক আরোহী বাইক ফেলে পাশে জঙ্গলে লুকিয়ে পড়ে, সেখানেও এলাকাবাসী তাড়া করে। পরে অজ্ঞাত পরিচয় দুই যুবক ঘোষপুর বাজারে রোডের উপর উঠে আসলে বাজারে অবস্থিত এলাকাবাসী তাদের ঘিরে ধরে। এবং চোর সন্দেহে গণপিটুনি শুরু হয়, যার ফলে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে আহত ওই দুই অজ্ঞাত পরিচয় দুই ব্যক্তিকে আশঙ্কজনক অবস্থায় উদ্ধার করে। এক যুবক তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং আরেকজন কলকাতায় চিকিৎসাধীন। পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে।
advertisement
পুলিশ সূত্রে ওই দুই অজ্ঞাত পরিচয়ের নাম জানা যায়। দু’জনেই পাঁশকুড়া পৌরসভার বাসিন্দা। দুজনেই পাঁশকুড়ার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শেখ আশাদুল ও শেখ মেহেরাজ। সন্ধ্যায় ঘোষপুর পঞ্চায়েত এলাকায় যান। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ পঞ্চায়েত অফিস সংলগ্ন রাস্তার মোড়ে তাঁদের আটকান এলাকার কয়েকজন যুবক। দাবি, সে সময় একটি মোটরবাইকের আরোহীরা আশা শেখদুল ও শেখ মেহরাজদের ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যান। বাসিন্দাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় সেই সন্দেহ জোরাল হয়। এর পরেই উত্তেজিত জনতা ওই দু’জনকে লাঠি, বাঁশ, রড দিয়ে বেধড়ক মারে। দু’জনই গুরুতর জখম হন। খবর পেয়ে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ ওই দু’জনকে উদ্ধার করে।
পুলিশ গণপিটুনির অভিযোগে ঘোষপুর গ্রাম থেকে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। এরা হল নিমাই দেবনাথ, সুব্রত দেবনাথ, পরেশ দেবনাথ, গণেশ পণ্ডিত ও রামানন্দ পণ্ডিত। ধৃতদের তমলুক জেলা আদালতে তোলা হয়। বিচারক সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এবিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে বলেন, ” শুধুমাত্র সন্দেহের বসে মানুষকে মারধর করা হবে, এর বিরুদ্ধে তা নিয়ে আগেই আমরা কাজ করছি। পাঁশকুড়া থানার রিমোট এলাকায় এই এক ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।” এদিকে, ঘটনার ঘোষপুরে পুলিশ শিবির করা হয়েছে। চলছে টহলদারি। গুজবে কান না দেওয়ার জন্য পুলিশের তরফে মাইকে প্রচার করা হচ্ছে।