চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য দফতরের প্রাথমিক অনুমান, এই দুই নার্স আক্রান্ত হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছিল, যাঁকেই বারাসতে নিপা ভাইরাসের প্রথম বাহক বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ওই মহিলা প্রবল জ্বর, সর্দি, কাশি, বমি এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার উপসর্গ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে এইচডিইউ-তে রাখা হয়। তবে ২২ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর শরীরে যে উপসর্গগুলি দেখা গিয়েছিল, সেগুলি নিপা ভাইরাসের লক্ষণের সঙ্গে মিল রয়েছে। যদিও মৃত্যুর আগেই তাঁর নিপা পরীক্ষার সুযোগ পাওয়া যায়নি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলা অসুস্থ হওয়ার কিছুদিন আগে খেজুরের রস খেয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, খেজুরের রস খাওয়ার পরই তাঁর জ্বর ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, নিপা ভাইরাস বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়াতে পারে এবং খেজুরের রস থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা আগেও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই মহিলার সেবায় নিযুক্ত দুই নার্সই বর্তমানে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তিনি কোমায় রয়েছেন। ইতিমধ্যেই পুনের গবেষণাগার থেকে ওই দুই নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। তাঁদের সংস্পর্শে আসা সকলের খোঁজে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং শুরু হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা মৃত মহিলার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং খেজুরের রস খাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছেন। জানা গিয়েছে, একই হাসপাতালে আরও একজন রোগী একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি মারা যান। তাঁর ক্ষেত্রেও নিপা পরীক্ষার সুযোগ হয়নি বলে জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপা ভাইরাসের জীবাণু শরীরে দীর্ঘদিন, প্রায় ৬২ দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। সেই কারণেই ডিসেম্বর মাসে মৃত ওই মহিলাকেই বারাসত এলাকায় নিপা সংক্রমণের সম্ভাব্য ‘প্রথম বাহক’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই ঘটনায় জেলা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর ও কেন্দ্রীয় টিম। সাধারণ মানুষকে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি বা শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।






