গুসকরা পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলুটিয়া সৎসঙ্গ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় পোস্ট অফিসের কর্মী রানা বিশ্বাসের বাড়িতে এই চুরির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় পুলিশের জালে ধরা পড়ল শাসক দলের নেতা। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গুসকরায়। ধৃত তৃণমূল কংগ্রেস নেতার নাম
হাই মল্লিক। হাই মল্লিক গুসকরা পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন ওয়ার্ড সভাপতি। ধৃত আর এক জনের নাম আহাদত শেখ। ধৃত দু জনেই ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
advertisement
রানা বিশ্বাস স্ত্রীকে নিয়ে কয়েকদিন আগে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার তাঁদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। শনিবার বিকেলে রানার মা সীমা বিশ্বাস বাড়িতে তালা দিয়ে গুসকরার শান্তিপুরে নিজের বাপের বাড়িতে বেড়াতে যান।
বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চোরের দল বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে ঘরের দুটি আলমারি ভেঙে সেখান থেকে স্বর্ণালঙ্কার সহ নগদ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। পরিবারের দাবি, শীতের সন্ধ্যায় চোরেরা ঘরের কম্বল পর্যন্ত নিয়ে যায়! ভরসন্ধ্যায় গোটা ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনার পর বাড়িতে ফিরে ভাঙা দরজা ও লণ্ডভণ্ড ঘর দেখে হতবাক হয়ে যান সীমা বিশ্বাস। তিনি জানান, এই চুরির ঘটনায় তাঁদের প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
রবিবার তদন্তে নেমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চুরির কিনারা করে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত তৃণমূল নেতা হাই মল্লিকের একটি আসবাবপত্রের দোকান আছে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলুটিয়ায়। হাই মল্লিক পেশায় কাঠমিস্ত্রি।
গুসকরা টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকা চোঙদার বলেন, আমাদের এখনও নতুন করে ওয়ার্ড কমিটি তৈরি হয়নি। সুতরাং হাই মল্লিক এখন পদে নেই।
সোমবার সকালে বাড়ি থেকে আহাদতকে ধরা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে চুরিতে জড়িত থাকার কথা সে কবুল করে। তার সঙ্গে হাইও চুরিতে জড়িত বলে পুলিশকে জানায় আহাদত। এরপর হাইকেও তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তালা ভাঙার কাজে ব্যবহৃত একটি লোহার সরঞ্জাম পুলিশ তাদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করেছে।
চুরির মালপত্র উদ্ধারের জন্য ধৃতদের সাতদিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। দু’জনকে তিনদিন পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিজেএম।
