ইতিহাস ঘাটলে জানা যায় আনুমানিক প্রায় ১৭৭৫ সালে মহারাজা নন্দকুমার এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই মন্দিরের দেবী দ্বিভুজা অর্থাৎ দুই হাত বিশিষ্ট এবং যে মূর্তিটি আমরা দেখতে পাই সেই মূর্তিটি কষ্টিপাথরের তৈরি। এখানে কালীর এক বিশেষ ‘গোপন’ বা ‘গুহ্য’ রূপ পুজিত হয়, যেখানে দেবী স্বয়ং মহাদেবের ওপর অধিষ্ঠিত। এটি একটি তান্ত্রিক সিদ্ধপীঠ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, অতীতে ডাকাতিরা এই দেবীর আশীর্বাদ নিয়ে ডাকাতি করতে যেত।
advertisement
আরও পড়ুন-ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড সাহেব চট্টোপাধ্যায়ের পাশের আবাসনে, বহুতলে দমকলের ৩টি ইঞ্জিন
তবে অনেকেই জানেন না, বীরভূম জেলার এটাই একটি কালী মন্দির যেখানে সন্ধ্যার পর আর কোনও ধরনের পুজো হয়না। এমনকি কালী পুজোর সময় রাত্রে কোনও বিশেষ পুজো হয়না। সন্ধ্যাবেলায় শীতল আরতি হয়ে যাওয়ার পর কালী পুজোর সমাপ্তি ঘটে। এর পরে ওই মন্দিরের আশেপাশে কোনও মানুষ যাতায়াত করেন না। গুহ্যকালী মন্দিরের সেবার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি সুব্রত ভট্টাচার্য তিনি আমাদের জানান ১১৭৮ সালের ১১ মাঘ এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠা দিবস মাঘ মাসে কৃষ্ণা রটন্তী চতুর্দশী অর্থাৎ আমাবস্যা ঠিক আগের দিন।
এই কালীমন্দিরে যে কালী মূর্তি রয়েছে সেটি নিয়ে আসা হয়েছিল তবে এই নিয়েও দ্বিমত রয়েছে। কেউ কেউ বলেন এই কালী মূর্তিটি মগধরাজ জরাসন্ধ নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, পরবর্তীকালে মহারাজা নন্দকুমার তা পুনর্প্রতিষ্ঠা করেন। আবার অনেকে বলেন কাশির রাজা চৈত্র সিং মাটি খননের সময় এই মূর্তিটি পেয়েছিলেন। তবে এবার যদি আপনি বীরভূম ভ্রমণের জন্য আসেন তাহলে অবশ্যই একবার সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত এই মন্দির থেকে ঘুরে যেতে পারেন।





