সোমবার ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা মোট ১৬ জন পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। ‘এমবি প্রিয়াংশু’ নামের একটি লঞ্চে করে তারা জঙ্গলের গভীরে প্রবেশ করেন। ভ্রমণের মূল আকর্ষণ ছিল সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য কাছ থেকে দেখা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা। কিন্তু সেই ভ্রমণই হঠাৎ করে আরও রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে, যখন পিরখালি জঙ্গলের ভেতরে আচমকাই দেখা মেলে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের।
advertisement
পর্যটকদের মধ্যে তখন উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। অনেকে প্রথমবারের মতো বাঘ দেখলেন, আবার কেউ কেউ আগেও দেখলেও এমন কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা খুবই বিরল। মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল ও ক্যামেরা বের করে সেই দৃশ্য বন্দি করতে শুরু করেন পর্যটকেরা। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে তারা এই বিরল মুহূর্ত উপভোগ করেন।
এই বিষয়ে লঞ্চের মালিক প্রসেনজিৎ মণ্ডল জানান, “আমরা প্রায়ই পর্যটকদের নিয়ে সুন্দরবনে ভ্রমণে যাই। তবে প্রতিবারই এমন অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় না। গতকাল পিরখালি জঙ্গলে হঠাৎই বাঘটি চোখে পড়ে। পর্যটকেরা খুব খুশি হন এবং সেই মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরে রাখেন। এর আগেও কয়েকবার আমরা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা পেয়েছি, তবে প্রতিবারই সেই অনুভূতি আলাদা।”
সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য, যেখানে বসবাস করে বিরল প্রজাতির বহু প্রাণী। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং ভয়ঙ্কর প্রাণী হল রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এই বাঘের দেখা পাওয়া যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণও। তাই বনদফতরের নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পর্যটকদের এই অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনে বাঘ দেখা খুব সহজ বিষয় নয়। ঘন জঙ্গল, নদীখাত এবং কাদামাটি ভরা এই অঞ্চলে বাঘরা সাধারণত নিজেদের আড়ালে রাখতেই পছন্দ করে। তাই যখনই পর্যটকদের সামনে বাঘের দেখা মেলে, তা নিঃসন্দেহে এক বিশেষ ঘটনা হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার পর পর্যটকদের মুখে ছিল একটাই কথা—সুন্দরবনের এই সফর তাদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। প্রকৃতির এত কাছাকাছি গিয়ে বন্যপ্রাণীর এমন দর্শন যে কোনও মানুষের মনেই গভীর ছাপ ফেলে। সুন্দরবনের এই রহস্যময় সৌন্দর্যই বারবার পর্যটকদের টেনে আনে, আর এমন ঘটনাই সেই আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে দেয়।