জেলার তাঁর সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা কম নয়, বাংলার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তাঁর সাবস্ক্রাইবার বলছেন জীবনের সমস্যা থেকে শুরু করে ঘুরতে যাওয়া, রান্না-খাওয়া, সন্তানদের পড়াশোনা, বাজার-দোকান, শপিং-সহ সব মুহূর্তই মহুয়া তুলে ধরেন দর্শকদের জন্য। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তাঁর এমন শোকের মুহূর্তও তুলে ধরা স্বাভাবিক। সরলভাবে মানুষকে বোঝানোর জন্য ও দর্শকদের জানানোর জন্যই তিনি এই ধরনের ভিডিও করেছেন। মহুয়া নিজেও স্বীকার করেছেন এই ভিডিওর ক্ষেত্রে মনিটাইজেশন বন্ধের উপায় তিনি জানেন না, তাই বাধ্য হয়ে এভাবেই ভিডিওটা ছাড়তে হয়েছে এবং এই ভিডিওর জন্য তিনি আগেভাগেই দর্শকদের কাছে দায় স্বীকার করেছেন।
advertisement
স্থানীয় প্রতিবেশীরা অবশ্য বলছেন, শাশুড়ি মার সঙ্গে সম্পর্ক ভাল ছিল পুত্রবধূ মহুয়ার। মহুয়ার ব্লগ দেখতেও ভালবাসতেন তিনি। তাই শেষ সময়ও তাঁর স্মৃতি ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই শুধুমাত্র এই ভিডিও। প্রতিবেশী সোমাশ্রী দাস বলেন, “মহুয়ার এই ভিডিওতে আমি ভুল কিছুই দেখছি না।” যদিও সামাজিক মাধ্যমে তাঁর প্রকাশিত ভিডিও ঘিরে নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে জোর সমালোচনা ও কটাক্ষ। মেদিনীপুরে বেড়ে ওঠা মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায়ের বিয়ে হয়েছে হালিশহরে। স্বামীর কর্মসূত্রে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করেন। ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যমে তিনি ‘প্রবাসে ঘরকন্না’র মহুয়া নামেই তিনি পরিচিত। প্রতিদিনের জীবনের নানা ছোটখাটো ঘটনা, ঘরকন্না, বাজার করা, প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথাবার্তা বা পরিবারের ব্যক্তিগত মুহূর্ত এসব নিয়েই তাঁর নিয়মিত ভ্লগ প্রকাশ পায়, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে খুবি গ্রহণযোগ্য। ফলে তাঁর আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে বাংলায়।
জানা গিয়েছে, মহুয়ার শাশুড়ির মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি স্বামী, ছেলে-মেয়েকে নিয়ে দেশে ফেরেন। সেই পুরো ঘটনাক্রম শাশুড়ির মৃত্যুশয্যা থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত নানা মুহূর্ত ভিডিও করে নিজের ভ্লগে প্রকাশ করেন। ভিডিওতে ফুলে সজ্জিত শাশুড়ির নিথর দেহ দেখানোর পাশাপাশি স্বামীর আবেগঘন মুহূর্তও ধরা পড়েছে। এমনকি শাশুড়ির দাহকার্যের পর নিজের কিশোরী মেয়ের সঙ্গে কথোপকথনের অংশও ভ্লগে তুলে ধরেন মহুয়া। যদিও এই বিতর্ক নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায়। তবে তার এই ভিডিওটি ঘিরে নেটদুনিয়ায় বিতর্ক ঝড় উঠলেও, অনুরাগীরা অবশ্য রয়েছেন তাঁর পাশেই।






