পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের ৩২ বিঘা গ্রাম। জামালপুর এক পঞ্চায়েতের অধীন সেই গ্রামের বাসিন্দা শেখ ইব্রাহিম। তাঁর বয়স ১০৪ বছর। এসআইআরের শুনানি পর্ব শুরু হতেই শাসক দলের পক্ষ থেকে বারবার দাবি জানানো হয়েছিল, বিশেষভাবে সক্ষম, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা ও গর্ভবতী মহিলাদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টও নির্দেশ দিয়েছে,বৃদ্ধ বৃদ্ধা, বিশেষ ভাবে সক্ষমদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করতে হবে। কিন্তু তারপরও অনেককেই অসুস্থ শরীর নিয়ে শুনানিতে হাজির হতে হচ্ছে। সেই বিতর্কের মাঝেই শুনানির নোটিশ পেলেন ১০৪ বছরের বৃদ্ধ সেখ ইব্রাহিম।
advertisement
এই ব্যাপারে জামালপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান বলেন, “এই ১০৪ বছরের বৃদ্ধ সেখ ইব্রাহিমের বাড়িতে গিয়েই এই হেয়ারিং পর্ব সারতে হবে। জেলা প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিকে শুনানির জন্য কোথাও যেতে হবে না। তাঁর বাড়িতে গিয়েই শুনানি করবেন আধিকারিকরা”।
ভোটার কার্ড অনুযায়ী শেখ ইব্রাহিমের জন্ম 1920 সালে। শরীর আর সেভাবে সঙ্গ না দিলেও তাঁর স্মৃতি এখনো টাটকা। ঘরের দাওয়ায় শুয়ে শেখ ইব্রাহিম শোনালেন স্বাধীনতা আন্দোলনের কথা। শোনালেন বিশ্বযুদ্ধের সময়কার অভিজ্ঞতার কথা। জানালেন তিনি দেশকে স্বাধীন হতে দেখেছেন, হাওড়া সেতু তৈরি হওয়া দেখেছেন তিনি।
১০৪ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের ফের শুনানি কি প্রয়োজন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আত্মীয় পরিজন গ্রামবাসীরা। তাঁরা বলছেন ২০০২ সালে এসআইআর হয়েছিল তখন সব খতিয়ে দেখেই নিশ্চয় ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় যখন শেখ ইব্রাহিমের নাম রয়েছে তখন আবার কেন তাঁকে শুনানির নোটিশ ধরানো হল।
