বর্ধমান শহরের উল্লাস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বর্ধমান শহরের জি টি রোড ধরে প্লে-স্কুলের পড়ুয়াদের নিয়ে উল্টো দিক দিয়ে বেপরোয়াভাবে পুলকার চালাচ্ছিলেন চালক। সন্দেহ হওয়ায় ধাওয়া করে উল্লাস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলকারটিকে আটকে চালককে জিজ্ঞাসা বাদ শুরু করতেই দেখা যায় ওই চালক মদ্যপ অবস্থায় রয়েছেন। পুলকারটিতে তখন চার ছাত্র-ছাত্রী ও একজন মহিলা অ্যাটেন্ডেন্ট ছিলেন।
advertisement
পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এরপরই চালককে আটক করে একই পুলকারে নিজেদের চালক দিয়ে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে। এই ঘটনা জানার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। তাঁরা বলছেন, যে কোনও সময় বড় বিপদ ঘটে যেতে পারতো।
বর্ধমানের বীরহাটা ট্রাফিক গার্ডের ওসি চিন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘আকণ্ঠ মদ্যপান করে খুদে পড়ুয়াদের জীবনের তোয়াক্কা না করেই বেপরোয়াভাবে পুলকারটি চালাচ্ছিলেন চালক। ওই চালককে বর্ধমান থানায় পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আমরা আমাদের চালক দিয়ে তাদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করি। স্কুল কর্তৃপক্ষকেও এ বিষয়ে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।’
বর্ধমানের সচেতন বাসিন্দারা বলছেন, ‘বর্ধমানের সরকারি বেসরকারি সব ধরনের স্কুলেরই বাস, পুলকার রয়েছে। সেইসব যানগুলি পথে চলার কতটা উপযুক্ত তা পরিবহণ দফতরের নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন। শিশুদের জীবন কখনও যাতে ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। বুধবারের এই ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দিল। তাঁদের চালকরা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্হ কিনা, তারা নেশায় আসক্ত কিনা সে বিষয়ে সবার আগে স্কুল কর্তৃপক্ষকেও সজাগ থাকতে হবে। তাদের উপর বিশ্বাস করে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে থাকি আমরা। এ রকম হলে তো ছেলেমেয়ে ঘরে না ফেরা পর্যন্ত উদ্বেগে সময় কাটাতে হবে।’
