পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নারায়ণগড় ব্লকের প্রত্যন্ত রানিসরাই গ্রাম পঞ্চায়েতের হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা উপেন মান্ডি। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন রেলের ওয়ার্কশপের একজন টেকনিশিয়ান। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত উপেন বাবুর দিনের বড় অংশ জুড়ে থাকে গান। স্ত্রী লতিকা মান্ডিকে সঙ্গে নিয়ে কখনও হারমোনিয়াম, কখনও কিবোর্ড—এই দুই সঙ্গী করেই চলে নিয়মিত রেওয়াজ। খেতে ভুলে গেলেও গানের ভুল হয় না—হাসতে হাসতেই বলেন উপেন বাবু।
advertisement
স্কুল জীবন থেকেই সমাজের নানা ঘটনা, চোখের সামনে দেখা জীবনসংগ্রাম, সচেতনতার বার্তা উঠে আসত তাঁর গানের কথায়। সেই সব গান বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবেশন করতেন তাঁরা। প্রার্থনা সঙ্গীত, গণ সঙ্গীত থেকে শুরু করে নানা সচেতনতামূলক গান মিলিয়ে শতাধিক গান লিখেছেন উপেন বাবু। নিজেই তাতে সুর দিয়েছেন। তাঁর ছেলে কিবোর্ড বাজাতে জানে—পরিবার জুড়েই যেন সংগীতের আবহ।
আরও পড়ুন: এক মাঘে শীত যায় না, বাংলাদেশকেও ভোগাতে পারে ভারত! কী কী পদক্ষেপ করতে পারে BCCI?
ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে হলদিয়ায় এসে বসবাস শুরু করেন উপেন বাবু। তাঁর বাবা-মা দুজনেই গান করতেন। সেই পারিবারিক উত্তরাধিকার আজও বহন করে চলেছেন তিনি। স্ত্রী লতিকা মান্ডির কণ্ঠও অত্যন্ত মধুর। তাঁর পরিবারেও ছিল গানের চর্চা। কর্মজীবন ও মিশন জীবনের ফাঁকে তিনিও লিখেছেন বহু গান।
ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুরের নানা প্রান্তে অনুষ্ঠান করেছেন এই দম্পতি। পারিশ্রমিক যেমন পেয়েছেন, তেমনই পেয়েছেন মানুষের ভালোবাসা। একাধিকবার আকাশবাণীতেও গান পরিবেশন করেছেন তাঁরা। বাংলা ও সাঁওতালি—দুই ভাষাতেই তাঁদের গান শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও এই স্বামী-স্ত্রীর শিল্প সাধনা নিঃসন্দেহে কুর্নিশ পাওয়ার যোগ্য।