আর সেই রঙেই নিজেদের জীবনে নতুন আশার আলো ফিরিয়ে আনতে চাইছেন এলাকার মহিলারা। দোলকে সামনে রেখে এখন পোড়া ঝাড়ের বহু বাড়িতেই ব্যস্ততা। তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ ভেষজ আবীর। পালং শাক, গাজর, বিট, জবা ফুল, কাঁচা হলুদের মতো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে বানানো হচ্ছে লাল, কমলা, হলুদ ও সবুজ রঙ। কোনওরকম ভেজাল নেই। ত্বকের জন্য নিরাপদ। এই বার্তাই ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের হাতে তৈরি বলেই বাড়ছে চাহিদাও। ইতিমধ্যেই দুই কুইন্টালের বেশি আবীর তৈরি হয়েছে। দোলের আগের দিন পর্যন্ত চলবে উৎপাদন। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে ‘শিলিগুড়ি ইউনিক ফাউন্ডেশন’।
advertisement
আরও পড়ুন: নতুন রাস্তার আনন্দ দু’দিনও টিকল না, হাত দিলেই উঠে আসছে পিচের চাঙড়! আবার নির্মাণের নির্দেশ প্রশাসনের
গত ছয় বছর ধরে ওই এলাকায় কাজ করছে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তাদের পরিচালিত ‘বিদ্যাছায়া’ টিউশন সেন্টারের ছাত্রীরা এবং তাদের অভিভাবকরা যুক্ত হয়েছেন আবীর তৈরির কাজে। আগে সীমিত পরিসরে তৈরি হলেও এ বছর প্রায় ২০-২৫ জনকে নিয়ে বড় আকারে উৎপাদন হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্কুল, বিএসএফ ও সিআরপিএফ ক্যাম্প থেকে অর্ডার এসেছে। পাশাপাশি সংগঠনের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও নেওয়া হচ্ছে অর্ডার। দাম রাখা হয়েছে সাধ্যের মধ্যে। প্রায় আড়াইশো টাকা কেজি।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
সংগঠনের প্রেসিডেন্ট গীতিকা পাল জানান, “এ বছর আবীর বিক্রির বেশিরভাগ লাভ তুলে দেওয়া হবে পোড়া ঝাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের হাতে। পাশাপাশি কিছু অংশ ব্যয় করা হবে বিদ্যা ছায়ার পড়ুয়াদের জন্য।” স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিমা রায় বলেন, “বন্যায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এই আবীর তৈরি করে আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আশা করছি এ বছর একটু লাভের মুখ দেখব।” বন্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে রঙের উৎসবে নিজেদের জীবন রাঙাতে চাইছে পোড়া ঝাড়। ভেষজ আবীরের প্রতিটি কণায় তাই মিশে আছে শুধু রঙ নয়, লড়াই, সাহস আর নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।





