রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীরামপুর স্টেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে শহরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রতিফলিত হয়। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, স্টেশনের নকশায় স্থানীয় ঐতিহ্য ও স্থাপত্যের ছাপ রাখা হবে, যাতে শ্রীরামপুরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ইতিহাস ফুটে ওঠে।
advertisement
‘হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে!’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম মুখ খুলেই কড়া অবস্থান মোজতবার
হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত শ্রীরামপুর পশ্চিমবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক শহর। একসময় এই এলাকা ড্যানিশ উপনিবেশের বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল, ফলে এখানে ইন্দো-ড্যানিশ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রভাব স্পষ্ট। এছাড়াও শ্রীরামপুরের মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রা দেশের অন্যতম প্রাচীন উৎসব হিসেবে পরিচিত, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম হয়। বাংলার শিক্ষার ইতিহাসেও শ্রীরামপুরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে; ভারতের অন্যতম প্রাচীন ছাপাখানাও একসময় এখানে স্থাপিত হয়েছিল।
অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে শ্রীরামপুর স্টেশনের পুনরুন্নয়নে আধুনিক রেল পরিকাঠামোর সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী নকশার সমন্বয় ঘটানো হবে। স্টেশনের প্রবেশপথ ও সার্কুলেটিং এরিয়া উন্নত করা, যাত্রীদের জন্য উন্নত প্রতীক্ষালয়, লিফট ও এসকেলেটর স্থাপন, প্ল্যাটফর্ম ও প্ল্যাটফর্ম শেডের মানোন্নয়ন, উজ্জ্বল আলোকসজ্জা এবং নান্দনিক পোর্চ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্টেশনে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই, উন্নত যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা এবং যান চলাচলের নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাও চালু করা হবে।
রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শ্রীরামপুর স্টেশন কেবল একটি যাতায়াত কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং স্থানীয় সংস্কৃতি ও অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠবে। যাত্রী পরিষেবা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি এই উদ্যোগ আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পর্যটনকেও উৎসাহিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
