মাতৃভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা নিয়ে বারংবার সওয়ালও করেছেন শিক্ষাবিদরা। তবে এবার আরও একধাপ এগিয়ে এবার মাতৃভাষা বাংলায় মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে পুজিতা হলেন দেবী সরস্বতী। শুধু তাই নয় পুষ্পাঞ্জলির মন্ত্রও উচ্চারিত হল বাংলায়, বাংলাতেই পুষ্পাঞ্জলি দিলেন সকলে।
আরও পড়ুন: নতুন বছরে কর্মসংস্থানের দিশা! পুরুলিয়ায় হাতে গরম চাকরি, উৎকর্ষ বাংলার হাত ধরে স্বপ্নপূরণ বেকারদের
advertisement
‘আমি যা বুঝি না, তা আমি অনুভব করি না’- সংস্কৃত ভাষা ও সেই ভাষায় উচ্চারিত মন্ত্র বোধগম্য হত না অধিকাংশের কাছেই, মন্ত্রের মর্ম বুঝতে না পেরে তা অনুভবও করতে পারতেন না অনেকে। তাই গূঢ় মন্ত্র উচ্চারণ নয় বরং মন্ত্রকে আরও সহজ সাধারণ করতে মাতৃভাষাতেই ব্যতিক্রমী সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
ঔঁ ভদ্রকালৈ নমো নিত্যং সরস্বতৈ নমো নমঃ।
বেদ-বেদান্ত বেদাঙ্গ-বিদ্যাস্থানেভ্যঃ এব চ।
এষ স-চন্দন বিল্বপত্র পুষ্পাঞ্জলি ঔঁ ঐং শ্রী শ্রী সরস্বতৈ নমঃ।
না। এই সংস্কৃত মন্ত্রে অঞ্জলি নয়। সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় মন্ত্র পাঠ করে অঞ্জলি দিল পড়ুয়ারা। শুধু কি তাই, সরস্বতীর প্রণাম মন্ত্র, “ওম জয় জয় দেবী চরাচর সারে।কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে। বীণা রঞ্জিত পুস্তক হস্তে ভগবতী ভারতী দেবী নমোস্তুতে- এই মন্ত্রও উচ্চারিত হল বাংলায়। সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় মন্ত্র পাঠ করে পুজো হল পূর্ব বর্ধমানের মশাগ্রামের সারদা মিশন শিক্ষণ মন্দিরে।
সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় মন্ত্র পাঠ, সরস্বতী পুজো থেকে অঞ্জলি সবই হল বাংলায়। আর মাতৃভাষা বাংলাতে অঞ্জলি দিতে পেরে খুশি পড়ুয়ারাও। তবে এই প্রথম নয়, আগের বছর থেকেই বাংলা ভাষায় সরস্বতী পুজোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকাশ করা হয়েছিল বাংলায় সরস্বতীর আরাধনার মন্ত্র সম্মলিত বইও। পূর্ব বর্ধমানের মশাগ্রামের সারদা মিশন শিক্ষণ মন্দিরে প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক চন্দন সাধু খাঁ বলেন, “আমরা সব সময় বলে এসেছি যে, যার কাছেই প্রার্থনা কর না কেন মাতৃভাষা যা হবে অন্য ভাষায় তা সম্ভব না। তাই অনেকদিনের প্রচেষ্টায় শিক্ষক মারুৎ কাশ্যপে লিখনিতে বাংলা ভাষায় সরস্বতী পুজোর বই প্রকাশ করেছিলাম। গত বছরের মধ্যে এ বছরও বাংলাতেই পুজো হয়েছে আমাদের এখানে।”





