পড়ার মধ্যেই বাবার ইলেকট্রিক টোটো নিয়ে রোজগারের সন্ধানে বার হতে হয় তাকে। মল্লিকার বাবা তুষার মুর্মু পেশায় কৃষক, মাঝে মাঝে টোটো চালান। বাবার কাছ থেকেই টোটো চালানো শিখেছে মেয়ে। সংসারের হাল ধরতে এখন বাবার পাশে দাঁড়িয়ে এভাবেই সাহায্য করছে মেয়ে মল্লিকা।
আরও পড়ুন: গুগলে ২৪ ঘণ্টায় ‘কতবার’ Search করা হয় জানেন…? চমকে দেবে ‘স্ট্যাটিস্টিক্স’!
advertisement
চাঁদড়া হাইস্কুলের ছাত্রী মল্লিকা জানায়, “আমি চাই বাবাকে একটু বিশ্রাম দিতে। সারাদিন কত পরিশ্রমই তো করে! তার ওপর আরও অনেক কাজ থাকে। তাই টোটো থেকে যেন রোজগার বন্ধ না হয়, সেই জন্য সময়মতো আমি যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিই। এভাবেই এখন বাবার পাশে দাঁড়াচ্ছি।”
মল্লিকা চার বোনের একজন। পরিবারের নিত্যদিনের বাস্তবতা জুড়ে রয়েছে আর্থিক অনটন ও সংগ্রাম। তবুও স্বপ্ন দেখতে ভোলে না সে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করে একটি ভালো চাকরি পাওয়ার ইচ্ছা মল্লিকার। মেয়ের এই প্রচেষ্টায় গর্বিত বাবা তুষার মর্মু। তিনি বলেন, “আমি কোনও কাজে ব্যস্ত থাকলে মেয়েই টোটো নিয়ে যায়। টোটো চালানো আমার কাছ থেকেই শিখেছে মল্লিকা। ছেলেদের থেকে কোনও অংশে কম যায়না আমার মেয়ে। যাত্রীরা নিশ্চিন্তে চড়ে তাঁর সঙ্গে।“ সংগ্রাম, স্বপ্ন আর আত্মসম্মানের এক জীবন্ত উদাহরণ পুরুলিয়ার আদিবাসী কন্যা মল্লিকা মুর্মু, যে প্রমাণ করে দিয়েছে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে দারিদ্রও স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না।
শান্তনু দাস





