অবসরের পরে নতুন শুরু! নিজের কলমে আঞ্চলিক সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রাখছেন এগরার ‘এই’ শিক্ষক
‘ধন্যবাদ ভারতবাসী’ ইরানের মিসাইলে কেন লেখা? ইজরায়েলের ওপর ৮৩তম দফার হামলা তেহরানের
ছাত্রজীবন থেকেই পড়াশোনায় ছিলেন মনোযোগী। গণিত বিভাগের ছাত্র। স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতায় যোগ দেন। শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন নিয়মানুবর্তী ও নিষ্ঠাবান। ছাত্রদের কাছে ছিলেন প্রিয় শিক্ষক। ক্লাসে তিনি সহজ ভাষায় কঠিন বিষয় বুঝিয়ে দিতেন। কিন্তু শুধু পড়ানোতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই শুরু হয় তাঁর লেখালেখি। গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ লেখার মাধ্যমে নিজের ভাবনা প্রকাশ করতেন। সেই অভ্যাসই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে তাঁর নেশা।
advertisement
শিক্ষকতার ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি সাহিত্যচর্চা চালিয়ে গিয়েছেন। অবসর গ্রহণের পর সেই চর্চা আরও গতি পেয়েছে। এখন তিনি নিয়মিত লিখছেন। বিশেষ করে আঞ্চলিক সাহিত্যকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর আগ্রহ বেশি। নিজের এলাকা এগরার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভাষার বৈচিত্র্য নিয়ে তিনি কাজ করছেন। তাঁর লেখা বইগুলির মধ্যে রয়েছে ‘এগরা থানার সাহিত্যচর্চার ক্রমবিকাশ ও ভাষা বৈচিত্র্য’, ‘এগরা হট্টনগর মন্দিরের ইতিকথা’, ‘এগরা মহকুমার পর্যটন চিত্রের হালহকিকৎ’ এবং ‘মহাবিশ্রা ৩.৫ দূরে’। প্রতিটি বইতেই স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন তিনি।
বীর কুমার শীর এই প্রচেষ্টা ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। নতুন প্রজন্মও তাঁর লেখা থেকে নিজেদের শিকড় সম্পর্কে জানতে পারছে। তিনি মনে করেন, আঞ্চলিক সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই ধরনের গবেষণামূলক কাজ আরও বাড়াতে হবে। তাই তিনি এখনও লিখে চলেছেন নিরলসভাবে। তাঁর কলম থামার নয়। অবসর জীবনে থেকেও তিনি হয়ে উঠেছেন এক অনুপ্রেরণার নাম। শিক্ষক থেকে সাহিত্যিক—এই যাত্রাই তাঁকে করেছে আলাদা ও অনন্য।