জমি আন্দোলনের কারণে বঙ্গ রাজ্য রাজনীতিতে বরাবরই একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ‘জোন’ নন্দীগ্রাম৷ বাংলায় বামেদের ৩৪ বছরের শাসনকালের অবসান ঘটিয়ে পরিবর্তনের পশ্চিমবঙ্গে ঘাসফুল ফোটানোর পিছনে অন্যতম কারণ ছিল নন্দীগ্রাম৷
আরও পড়ুন: সকাল সকাল কালীঘাটে শুভেন্দু! গেরুয়া ধ্বজা নিয়ে সঙ্গে সমর্থকেরা, শুরু শনিবারের প্রচার
তবে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা-শুভেন্দু দ্বৈরথ ঘিরে অন্য মাত্রা পায় এই নন্দীগ্রাম৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ‘পরাজয়’, শুভেন্দু অধিকারীর জয় তৈরি করে অদৃষ্টপূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতি৷ সেই নন্দীগ্রাম থেকেই এবার প্রার্থী দিতে চায় ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)৷
advertisement
শুক্রবারের সাংবাদিক বৈঠকে নওশাদ জানিয়েছেন, বামফ্রন্ট ও ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এর মধ্যে সিট সমঝোতার বড় অংশ চূড়ান্ত হয়েছে। দুই পক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, মোট ২৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে ঐকমত্যে পৌঁছনো গেছে, যদিও এখনও কয়েকটি আসন নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গিয়েছে।
তবে সমঝোতার ছবিতে এখনও কিছুটা ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। পাঁশকুড়া পশ্চিম, নন্দীগ্রাম, ভগবানগোলা ও মুরারই এই চারটি আসন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত। বামফ্রন্ট ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করলেও, আইএসএফও সেখানে নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড়।
আরও পড়ুন: রাজ্যের নতুন ৭ জেলা কোথায় হবে, কী কী নাম? জানানো হল তৃণমূলের ইস্তেহারে
পাঁশকুড়া পশ্চিম, নন্দীগ্রাম, ভগবানগোলা এবং মুরারই। ইতিমধ্যে বামেরা এই ৪ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে ফেলেছে। কিন্তু, এই ৪টি বিধানসভা আসনে তাঁরা প্রার্থী দেবেন বলে সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ISF-এর কার্যনির্বাহী সভাপতি সামসুর আলি মল্লিক। তিনি বলেন, ‘‘বামেদের আমরা পত্র মারফত, ইমেল মারফত জানিয়েছি। এই ৪টে আসনে যাতে বামেরা প্রার্থী না দেন, সেই আবেদন জানাচ্ছি৷’’
প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের ২৫% ভোটার সংখ্যালঘু৷ তার মধ্য়ে নন্দীগ্রাম ১ বেশি সংখ্য়ালঘু অধ্য়ুষিত। ভগবানগোলায় ৮৬%, পাঁশকুড়া পশ্চিম ৩৩%, মুরারই -র ৬৮% ভোটার সংখ্যালঘু৷ গত বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফ যে ২৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, সেই তালিকায় ছিল না আইএসএফ৷ মোটের উপরে আইএসএফ-এর গড় প্রাপ্ত ভোট ছিল আসনপিছু ২৬,৯০৩টি ভোট৷ দীর্ঘদিন পরে নন্দীগ্রাম আসনটি ফের শরিক সিপিআইকে ছেড়ে দিয়েছে সিপিএম। নন্দীগ্রামে দাঁড়াচ্ছেন শান্তি গিরি।
