সেই সময় অভিনয়ের পারিশ্রমিক ছিল মাত্র ৩০ টাকা। কিন্তু সেই সামান্য টাকাই ছিল তার কাছে বড় প্রাপ্তি। কারণ তখন থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, অভিনয়ই তার জীবনের আসল পথ। পরবর্তী সময়ে তিনি অ্যামেচার যাত্রা দলে যোগ দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ অভিনয় জীবন। বিভিন্ন যাত্রাপালায় তিনি নানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কখনও রাজনৈতিক নেতার চরিত্রে, কখনও পরিবারের কর্তার ভূমিকায়। আবার কখনও গ্রামবাংলার চেনা চরিত্রে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন। তার সংলাপ বলার ভঙ্গি সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা। মঞ্চে দাঁড়ালেই দর্শকদের মন কেড়ে নেন তিনি। তার অভিনয়ে থাকে আবেগ, বাস্তবতা এবং অভিজ্ঞতার ছাপ। তাই গ্রামগঞ্জের দর্শক থেকে শুরু করে শহরের মানুষও তার অভিনয় উপভোগ করেন।
advertisement
শুধু পূর্ব মেদিনীপুর নয়, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতে ছড়িয়ে পড়েছে তার পরিচিতি। যাত্রাপালার দলে দলে ঘুরে তিনি বহু জায়গায় অভিনয় করেছেন। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকাতেও তার অভিনয় দর্শকদের মন জয় করেছে। দীর্ঘ ছ’দশক ধরে মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বয়স বাড়লেও অভিনয়ের প্রতি তার ভালবাসা কমেনি। এখনও তিনি সমান উদ্যমে মঞ্চে ওঠেন। দর্শকের করতালি তার কাছে আজও বড় প্রেরণা। সেই করতালিই তাকে বারবার নতুন করে শক্তি দেয়।
তবে তাঁর অভিনয় যাত্রা সহজ ছিল না। শুধু যাত্রা অভিনয় করে সংসার চালাতে তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। অর্থের টানও ছিল জীবনে। কিন্তু তবুও তিনি এই পেশা ছাড়েননি। কারণ অভিনয়ই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ছোটবেলায় পেটের টানেই তিনি এই জগতে পা রেখেছিলেন। আর সেই পথই তাকে আজ রাজ্যজুড়ে পরিচিত এনে দিয়েছে। যাত্রা মঞ্চই তার আসল ঠিকানা। এখানেই তিনি নিজেকে খুঁজে পান। এই মঞ্চ, এই অভিনয়ই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।





