সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে একই ছাদের তলায় মিলছে বালুচুরি থেকে ঢাকাই জামদানি সব ধরণের শাড়ির এক বিশাল সম্ভার। বাংলার তন্তুবায়দের নিপুণ হাতের কাজকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ। সাধারণত, মুর্শিদাবাদী সিল্কের জন্য মুর্শিদাবাদ, বালুচুরির জন্য বাঁকুড়া বা ঢাকাইয়ের জন্য ওপার বাংলা বা নদিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় শাড়ি প্রিয় বাঙালি মহিলাদের। কিন্তু তমলুকের এই প্রদর্শনী সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে পা রাখলেই চোখে পড়বে বিষ্ণুপুরের স্বর্ণচুরি ও বালুচরির ঠাসা বুনন। আঁচলে ফুটে উঠছে পৌরাণিক আখ্যান।
advertisement
অন্যদিকে, ঐতিহ্যবাহী কারুকাজ করা জামদানি বা মসলিন ঘরানার শাড়িগুলি যেন হালকা কুয়াশার মত সুক্ষ্ম। মধ্যবিত্তের নাগালে থাকা সাধারণ টাঙ্গাইল তাঁত থেকে শুরু করে আভিজাত্যে মোড়া সিল্ক, বাদ নেই কিছুই। সরাসরি তাঁতিদের থেকে সংগ্রহের সুযোগ। এ বিষয়ে প্রদর্শনীতে আসা এক ক্রেতা পল্লবী পণ্ডিত জানিয়েছেন, ‘চৈত্রের ভিড় এড়াতে আগেভাগে কেনাকাটা সেরে রাখতে চাইছিলাম। এখানে এসে যা কালেকশন দেখলাম, তাতে একটা নিতে এসে তিনটে কিনে ফেললাম।’ এই প্রদর্শনীয় মেলার বিষয়ে রাজ্যের মৎস্য মন্ত্রী বিপ্লব রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘এখানে কোনও মধ্যসত্ত্বভোগী নেই। সরাসরি তাঁতি ও সমবায় সমিতিগুলি থেকে শাড়ি আসায় গুণমান যেমন অটুট, দামও তেমনই আয়ত্তের মধ্যে।’ জেলা হস্ত তাঁত উন্নয়ন আধিকারিক জানান, ‘জেলার বাসিন্দাদের কাছে সেরা মানের বস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের লক্ষ্য প্রান্তিক শিল্পীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা।’
চৈত্রসেলের আগে বড় চমক সরকারি উদ্যোগে তমলুকের এই চৈত্র তাঁতবস্ত্র মেলা। মার্চ মাসের এই সময়টায় সাধারণত মানুষ সেলের জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু প্রদর্শনীতে দেওয়া বিশেষ ছাড় সেই সেলের আমেজকে আগেই ফিরিয়ে এনেছে। কেবল শাড়ি নয়, হ্যান্ডলুমের কুর্তি থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর সামগ্রীও মিলছে কিছু স্টলে। তবে মূল আকর্ষণ সেই আটপৌরে থেকে আধুনিক সাজের শাড়িই।বালুচুরি, স্বর্ণচুরি, ঢাকাই জামদানি এবং তসর সিল্ক। সরকারি শংসাপত্রপ্রাপ্ত তাঁতিদের সরাসরি স্টল। দেরি না করে ঘুরে আসতেই পারেন তমলুকের এই শাড়ি উৎসবে। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকছে প্রদর্শনী।





