একই সঙ্গে ওই প্রেমিক যুগল তাদের মৃত্যু দিয়ে প্রেমকে যেন অমর করে দিয়ে গেল! তাদের এই প্রেমের করুণ পরিণতিতে ভেঙে পড়েছে পরিবার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁশকুড়া থানার অন্তর্গত ওই এলাকায় এক কলেজ পড়ুয়া যুবকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ১৫ বছর বয়সি এক স্কুলছাত্রীর। যুবকটি বর্তমানে কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র, আর কিশোরীটি স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী।
advertisement
আরও পড়ুন: তীব্র গরমের দিন শুরু! ২৪ ঘণ্টায় ঘাম ছোটাবে আবহাওয়া, বৃষ্টি কোন কোন জেলায়? ওয়েদার আপডেট
গত দুই বছর ধরে তাদের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বয়সের সীমাবদ্ধতা কিংবা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, কোনও কিছুই তাদের ভালবাসায় বাধা হতে পারেনি। কিন্তু প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিল পরিবার। আরও জানা যায়, তাই এক প্রকার পারিবারিক বাধা ভেঙে দু’জনে বিয়ে করে এক হতে গিয়েছিল। সেই পরিকল্পনা মাফিক তমলুকের মৈশালী এলাকায় একটি মন্দিরে বিয়ে করতে যায় ওই প্রেমিক যুগল। কিন্তু নাবালিকা হওয়ায় বিয়ে দিতে নারাজ হয় মন্দিরের পুরোহিত। আর তারপরেই চরম সিদ্ধান্ত নেয় ওই প্রেমিক যুগল।
দু’জনেই একসঙ্গে কীটনাশক খায়। দু’জনেই অচৈতন্য অবস্থায় মাছের ভেড়ির ধারে পড়েছিল। সেখান থেকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু হাসপাতলে নিয়ে এলেও বাঁচানো যায়নি ওই প্রেমিক যুগলকে। দু’জনেই মারা যায়।
ছাত্রীটির বাবা পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। অভাবের সংসারে মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। মেয়ের এই কিশোর বয়সের প্রেমকে মেনে নিতে পারেননি। বাড়িতে এই সম্পর্ক নিয়ে অশান্তি দানা বেঁধেছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন আর ভালবাসার মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় গ্রাস করেছিল ওই যুগলকে।
শেষ পর্যন্ত লোকলজ্জা আর পরিবারের জেদের কাছে হার মেনে তারা বেছে নেয় চরম পথ। একই সঙ্গে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে তারা যেন নিজেদের প্রেমকে এক ট্র্যাজিক পরিণতিতে পৌঁছে দিয়ে গেল। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বসন্তের দখিনা বাতাস যেন পাঁশকুড়ার ওই এলাকায় দীর্ঘশ্বাস বয়ে নিয়ে এসেছে। ঋতুরাজ বসন্তের এই মরসুমে একটি রঙিন প্রেমের গল্পের এমন ধূসর সমাপ্তি, মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী।






