ধূপকাঠির ছোট ব্যবসা থেকে শুরু করে আত্মীয়দের বাড়ি যাতায়াত, সবই চলছে একই নিয়মে। এমনকি বিয়ের পরও মাত্র কয়েকদিন জুতো পরেছিলেন, তারপর থেকেই শুরু এই ‘খালি পা’ অধ্যায়। নীলমণি বলেন, “এবার আমার বিশ্বাস বিজেপি সরকার আসবে এবং আমার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হবে। প্রথম প্রথম অনেকেই অনেক কথা বলেছে, তবে এখন সবাই জেনে গেছে বিষয়টা।”নীলমণির দাবি, বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার ও খুনের ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই ক্ষোভ ও বেদনা থেকেই তাঁর এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত। যদিও এই সিদ্ধান্তের জন্য কম কটূক্তি শুনতে হয়নি তাঁকে। কিন্তু তাতে কখনও দমে যাননি।
advertisement
তাঁর সোজা জবাব “সময় এলেই সবাই সব বুঝবে।” পরিবারও প্রথমে অবাক হয়েছিল। স্ত্রী রাখী দানা বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, সন্তানরাও প্রশ্ন করেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নীলমণির অটল ইচ্ছাকে মেনে নিয়েছে পরিবার। এখন তারাও আশাবাদী, এইবার হয়তো প্রতিজ্ঞা ভাঙার সময় আসছে।
নীলমণি দানার স্ত্রী রাখী দানা বলেন, “প্রথম প্রথম আমাদের অসুবিধা হত, তবে এখন সব অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। ও শ্বশুরবাড়ি থেকে শুরু করে সব জায়গায় খালি পায়েই যায়। আমাদেরও মনে হয় এবার ওর প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হবে।” ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছেন নীলমণি। তাঁর বিশ্বাস, এ বারই রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করবে। আর ভোটের ফল ঘোষণার দিনই, দলের জয়ের আনন্দে, বহুদিনের প্রতিজ্ঞা ভেঙে জুতো পরবেন তিনি।
এমনকি দলের নেতা-কর্মীরাও প্রস্তুত বিজয়ের দিন তাঁকে জুতো উপহার দিয়ে মিছিলে হাঁটাবেন। তবে এই কাহিনিতে রয়েছে ভিন্ন মতও। স্থানীয় পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য মিহির মণ্ডলের দাবি, নীলমণির জুতো না পরার পেছনে নাকি রয়েছে পারিবারিক কারণ, ভোট এলেই এই ‘প্রতিজ্ঞা’র গল্প সামনে আনা হয়। তবে কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক তা সময়ই বলবে। আপাতত কেতুগ্রামে খালি পায়ের এই রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা নিয়েই চর্চা তুঙ্গে!