প্রসঙ্গত, মাস কয়েক আগেই পূর্ত দফতরের অধীনে থাকা জমিতে বিশ্বভারতীর তোরণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে আপত্তি ওঠে। অভিযোগ ওঠে রাজ্য সরকার, বীরভূম জেলা প্রশাসন অথবা পূর্ত দফতরের কোনও লিখিত অনুমতি ছাড়াই কাজ চলছিল। আর সেই কারণেই মাস কয়েক আগে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে মৌখিক ভাবে আশ্বাস পাওয়ার পর ফের তোরণ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে বলে বিশ্বভারতী সূত্রে খবর। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আবারও পূর্ত দফতরের কাছে ই-মেল মারফত অভিযোগ জানিয়েছেন বোলপুরের একাধিক ব্যবসায়ীরা।
advertisement
ইউনেস্কোর তরফ থেকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের সম্মানের সম্মানিত হয়ে বোলপুর শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীর মূল চারটি প্রবেশপথে চারটি বড় আকারের তোরণ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার
ঘোষ। এই তোরণ নির্মাণ হলে পর্যটকদের কাছে আরও অনেকটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে কবিগুরুর প্রাণের শহর শান্তিনিকেতন। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে বিশিষ্ট শিল্পী সুরেন্দ্রনাথ করের স্থাপত্যশৈলীর আদলে এই তোরণগুলি নির্মাণের কাজ চলছে হচ্ছে। আরও জানা যায় বোলপুর শান্তিনিকেতনের বিশেষ বিশেষ জায়গায় যেমন দমকল বিভাগের সামনের রাস্তা, শান্তিনিকেতন রোডে কবিগুরু হস্তশিল্প মার্কেট, শ্যামবাটি বাজার সংলগ্ন অঞ্চল এবং কালিসায়র মন্দির সংলগ্ন বিশ্বভারতীর প্রবেশপথ -এই চারটি স্থানে তোরণ নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আর এই তোরণগুলির মূল যে নকশা সেটা তৈরি করছেন বিশ্বভারতীর কলাভবনের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা , প্রাক্তনী ও বর্তমান পড়য়ারা।
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা যায় গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে শান্তিনিকেতন রোডে রতনকুঠি গেস্ট হাউস এর কাছে এলাকায় তোরণ নির্মাণের জন্য রাস্তার দু’ধারে গর্ত করে রড ও সিমেন্ট দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়। কাজ শুরু হওয়ার পরেই পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়াররা প্রশ্ন তোলেন-রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন ও পূর্ত দফতরের অনুমতি ছাড়া কীভাবে নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে। যদিও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোনও ধরনের লিখিত অনুমতি দেখাতে পারেননি আর সেই কারণেই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আপত্তিতে সেই কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপরেই দুর্গা পুজোর জন্য লম্বা ছুটির ফলে কাজ আর এগোয়নি। তবে বর্তমানে ফের ওই তোরণের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে অভিযোগ তুলেছেন একাংশ ব্যবসায়ী।
