উক্ত কার্যসূচি কামাখ্যা থেকে শুরু হয়ে লামডিং, ডিফু ও বরপথার -সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করা হয়। লামডিং-এ, জেনারেল ম্যানেজার রিলিফ ইয়ার্ডে প্রস্তাবিত ‘লোকো মিড-লাইফ রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্ট’-এর পর্যালোচনা করেন, যার লক্ষ্য হলো লোকোমোটিভের দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিচালনগত স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করা। বোকাজান ও বরপথারের মধ্যে ৩১.৩ কিলোমিটার পথে একটি সফল গতি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়, যেখানে সমস্ত সুরক্ষা বিধি মেনে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে; এটি সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রেক ষ্টেণ্ডার্ড এবং নিরাপদ ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অব্যাহত মনোযোগেরই প্রতিফলন।
advertisement
ডিফুতে যাত্রী-কেন্দ্রিক ও নিরাপত্তা বৃদ্ধিমূলক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যের পরিদর্শন ও প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ডিফু–দলদালি সেকশনের মধ্যে ‘ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং ডাবল সেকশন’ ব্যবস্থা, যা ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশে পরিচালনগত সুরক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে মজবুত করেছে। স্টেশনের সুরক্ষা ও যাত্রীদের আস্থা আরও মজবুত করার লক্ষ্যে সিসিটিভির নজরদারি ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়াও, লেভেল ক্রসিং গেট নং এসটি-৫৮-এর পরিবর্তে নবনির্মিত একটি ‘রোড আন্ডার ব্রিজ’ (আরইউবি) পরিদর্শন করা হয়; যা সুরক্ষা বৃদ্ধি, রোড ও রেল সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং যানজট হ্রাসের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। বরপথার স্টেশনে জেনারেল ম্যানেজার বিস্তারিতভাবে পরিদর্শন করেন এবং লেভেল ক্রসিং গেটে ডেটা ও ভয়েস রেকর্ডিং সিস্টেমসহ আধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শনীও পর্যবেক্ষণ করেন। সুরক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণের মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পয়েন্টস ও ক্রসিং, লং ওয়েল্ডেড রেল এবং সুইচ এক্সপ্যানশন জয়েন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাক উপাদানগুলোও পরিদর্শন করা হয়। তিনি ফিল্ড ষ্টাফদের সাথেও মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের নিষ্ঠার প্রশংসা করার পাশাপাশি সুরক্ষা, দক্ষতা ও দলগত কাজের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শনটিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল সম্পদসমূহও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে মাইনর ব্রিজ নং ৩৩১-এর মতো মেজর ব্রিজ অন্যতম। মানববিহীন ক্রসিংগুলোতে প্রি-ওয়ার্ণিং মেকানিজম এবং ট্রলিতে স্থাপিত অভিনব গ্রিজিং ব্যবস্থার মতো উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনা করা হয়; যা আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি এবং প্রযুক্তি-নির্ভর সমাধানের প্রতি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের বিশেষ গুরুত্বারোপকেই প্রতিফলিত করে। পরিদর্শন কার্যক্রম জামুগুরিতে পর্যালোচনার মাধ্যমে আরও অগ্রসর হয়। লামডিং ডিভিশনের অধীনস্থ চলমান প্রকল্পগুলোও পর্যালোচনা করা হয়।
এই ব্যাপক পরিদর্শন আধুনিকীকরণ, উন্নত সুরক্ষা মান এবং যাত্রীদের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট অভিজ্ঞতার প্রতি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে যে সর্বদাই অবিচল, সেই অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করে। ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সক্রিয় পদক্ষেপের মাধ্যমে, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে এই সমগ্র অঞ্চলে দক্ষ, নির্ভরযোগ্য এবং যাত্রী-বান্ধব রেল পরিষেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
