সতিরানি দাস বা কানাইলাল দাসের মতো প্রবীণদের নাম তালিকায় থাকলেও, তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের ১৮ জন সদস্যের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে বলে অভিযোগ। ১৯৭১ সালের বর্ডার স্লিপ, পাসপোর্ট, আধার ও রেশন কার্ড সহ সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও এই নাম বাদ পড়ায় রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছে ৬টি পরিবার। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও যাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, আজ তাঁদেরই ‘অবৈধ’ তকমা দেওয়ার চেষ্টায় চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে সীমান্ত এলাকায়। ওপার বাংলার সাতক্ষীরা থেকে আসা এই পরিবারগুলি এখন নিজেদের ভিটে হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ কয়েক দশকের নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও কেন এই তালিকা বিভ্রাট, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা।
advertisement
অন্যদিকে, এসআইআর-এর প্রথম পর্যায়ের তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় নিজের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় দেখে চরম আতঙ্কে আত্মঘাতী মহিলা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের দৌলতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শীতলপুর গ্রামে। জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম হাজেরা বিবি (৪৩)।
মৃতের পরিবারের সদস্যরা জানান, এসআইআর হেয়ারিং সংক্রান্ত একটি নোটিশ পান তিনি। নোটিশে উল্লেখ ছিল, ‘বর্তমানে তিনি এমন একজনের কন্যা বা পুত্র, যাকে আরও ছ’জন বাবা বলে দাবি করছেন’। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে হেয়ারিং কেন্দ্রে যেন হাজির হন হাজেরা বিবি। হেয়ারিং সম্পন্ন হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্যায়ের তালিকা প্রকাশিত হয়। সেখানে নিজের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ হিসেবে দেখতে পেয়েই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপরই আতঙ্কিত ওই মহিলা চরম পদক্ষেপ নেন। ঘটনা দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসা চলাকালীন এদিন সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
