শনিবার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে প্রায় আধ ঘণ্টা বৈঠক করেন রানাঘাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক৷ দু জনেই অবশ্য দাবি করেছেন এই বৈঠক নিছকই সৌজন্যমূলক ছিল৷ বৈঠকে রাজনৈতিক কোনও কথা হয়নি বলেও দাবি করেছেন মুকুটমণি এবং শান্তনু৷ যদিও বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিজেপি সাংসদ ও তৃণমূল বিধায়কের এই বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে৷
advertisement
বিষয়টি অন্যমাত্রা পেয়েছে ঠাকুরবাড়িরই আর এক সদস্য এবং বাগদার তৃণমূল বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুরের দাবিতে৷ শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে মুকুটমণি দাবি করেন, তিনি মধুপর্ণার সঙ্গেও দেখা করেছেন৷ যদিও বাগদার তৃণমূল বিধায়ক পড়ে দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে মুকুটমণি অধিকারী এ দিন দেখা করেননি৷ মুকুটমণি কেন তাঁর সঙ্গে দেখা করার মিথ্যে দাবি করলেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মধুপর্ণা৷
রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক মুকুটমনি অধিকারী ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন। তিনি শান্তনু ঠাকুরের অনুগামী বলেই পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ২০২৪- এর লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। যদিও রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন মুকুটমণি। ২০২৪ সালেই রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জিতে ফের বিধায়ক হন তিনি।
আরও পড়ুন: ‘রাষ্ট্রপতির অপমানের জন্য দায়ী বাংলার প্রশাসন, সব সীমা পার করেছে তৃণমূল সরকার!’ তোপ মোদির
শনিবার সন্ধ্যায় মুকুটমণি অধিকারীর সঙ্গে শান্তনু ঠাকুরের বৈঠক হয়। প্রায় আধ ঘণ্টা দু জনের মধ্যে কথা হয় । বৈঠক শেষে বেরিয়ে মুকুটমণি অধিকারী দাবি করেন, নতুন গাড়ি কিনে ঠাকুরবাড়িতে পুজো দিতে এসেছিলেন। শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি মধুপর্ণা ঠাকুরের সঙ্গেও দেখা করেছেন বলে দাবি করেন মুকুটমণি। কোনও রাজনৈতিক কারণে তিনি শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করেননি বলেও দাবি করেন মুকুটমণি৷
শান্তনু ঠাকুরও দাবি করেন, মুকুটমণি অধিকারী গাড়ি পুজো করাতে এসে আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন৷ কোনও রাজনীতির কথা হয়নি৷
শান্তনু ঠাকুর মুকুটমণি অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের কথা স্বীকার করলেও ঠাকুরবাড়ির আর এক সদস্য বাগদার বিধায়ক মধুপর্ণা দেব অবশ্য রানাঘাট দক্ষিণের বিধায়কের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন৷ মুকুটমণির দাবি উড়িয়ে মধুপর্ণা বলেন, আমাদের বাড়িতে উনি আসেননি। এটা ঠাকুরবাড়ি, যে কেউ আসতে পারেন। কিন্তু কেন উনি মিথ্যে কথা বললেন, এটা বুঝতে পারছি না।
মুকুটমণি অধিকারী দল পরিবর্তন করতে পারেন কি না এ প্রসঙ্গে মধুপর্না বলেন, তিনি বিজেপিতে যাবেন কি না সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।
