ভোটের প্রশিক্ষনে থাকা প্রায় শতাধিক শিক্ষক তাঁদের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন এবং নির্বাচন আধিকারিকদের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন। অভিযোগ, কোনও আগাম নোটিস বা যথাযথ যাচাই ছাড়াই তাঁদের নাম এই তালিকায় তোলা হয়েছে। অথচ তাঁদের অনেকেই ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে সরকারি শিক্ষকতা করছেন এবং একাধিক নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
advertisement
নিয়মিত সরকারি বেতন পাওয়া থেকে শুরু করে পূর্ববর্তী ভোটার তালিকায় নাম থাকা সব নথি থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে বিচারাধীন তকমা জুটেছে তাঁদের। শিক্ষক শামসুজ্জামান বলেন, “এতদিন নির্বাচন কমিশনের হয়ে দায়িত্ব পালন করেছি, হঠাৎ করে আমাদের নিয়েই সন্দেহ কেন! তা বুঝতে পারছি না।” অপর শিক্ষক সাইফুল মণ্ডল জানান, “ভোটের সময় আমরা দায়িত্বশীল কর্মী, আর এখন তালিকায় নাম উঠতেই অনিশ্চয়তা, এটা মেনে নেওয়া কঠিন।”
আরও পড়ুন: হু হু করে পড়ছে…! ‘ইরানের’ ১ কোটি রিয়ালের দাম ‘ভারতে’ কত হবে জানেন? শুনলেই চমকাবেন শিওর!
শিক্ষকদের মূল প্রশ্ন, এই পরিস্থিতিতে তাঁদের ভবিষ্যৎ কী! তাঁরা আদৌ ভোটের কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন তো, নাকি তালিকা থেকে বাদ পড়বেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ হলেও তাতে কারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক শিল্পা গৌরিসারিয়া জানিয়েছেন, “বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” কমিশনের নিয়ম মেনেই সমস্ত প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি দাবি করেন। আগামী সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি। তবে স্পষ্ট সমাধান না মেলায় অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে শিক্ষকদের মধ্যে। ভোটের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মীদের এমন পরিস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সমন্বয় নিয়েও। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলাশাসকের দফতরের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।
রুদ্র নারায়ণ রায়






