ঘটনার আরও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার মহম্মদ সফিউল আলমের নিজের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলি ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ পর্যায়ে থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় তা ডিলিট দেখানো হয়েছে। বিএলও হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সমস্ত আবেদনপত্র তিনি যাচাই করে ডিজিটাল মাধ্যমে জমা দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন সফিউল আলম। তার কথায়, অধিকাংশ আবেদনকারীর নথিপত্র সঠিক ছিল। যদিও কিছু ক্ষেত্রে কমিশনের নির্দিষ্ট নির্দেশিকার সঙ্গে অমিল থাকতে পারে, তবুও সব নাম একসঙ্গে বাদ পড়ার যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। প্রক্রিয়া অনুযায়ী হিয়ারিং ও অ্যাডজুডিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পর সমস্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু সোমবার রাতে প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা এবং পরদিন সকালে পাওয়া হার্ডকপিতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ৩৪০ জনের নামই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
advertisement
এই পরিস্থিতিতে ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় বহু মানুষ বিএলও-র সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে সফিউল আলম স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই পর্যায়ে তার কিছু করার নেই। তার অভিযোগ, বিষয়টি ইআরও ও এইআরও-দের জানানো হলেও তা গুরুত্ব পায়নি এবং আবেদনকারীদের ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। নাম বাদ পড়া ভোটারদের জন্য ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা দায়িত্বে থাকবেন। তবে একসঙ্গে এত সংখ্যক বিচারাধীন ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন অনেকেই। পুরো ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা যেমন বাড়ছে, তেমনি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে।






