পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘নির্মল বাংলা’ প্রকল্পে বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েতে বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ করে পচনশীল অংশ থেকে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি হলেও অপচনশীল বর্জ্যের ভবিষ্যৎ কোথায় তা এতদিন অজানাই ছিল। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই মোহনপুর পঞ্চায়েত এই অভিনব পদক্ষেপ। এই প্রকল্পের মূল কারিগর পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক ধীমান পাল।
আরও পড়ুনঃ টোটোয় উঠে খেলতে গিয়ে বিপত্তি! হ্যান্ডেলে হাত দিতেই সোজা গাছে ধাক্কা, ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু এক শিশুর
advertisement
‘সুষম জলপ্রপাত’ নামক একটি সংস্থার মাধ্যমে ব্লকের কয়েকজনকে দু’দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। সেই প্রশিক্ষণকে পুঁজি করেই এত বড় কর্মযজ্ঞে নামেন ধীমানবাবু। তাঁকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেন মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নির্মল কর।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ধীমানবাবু এর আগেও পাতুলিয়া পঞ্চায়েতে থাকাকালীন এই ধরনের উদ্যোগ নিতে চেয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে সেই প্রচেষ্টা কার্যকরী হয়নি। পরে মোহনপুর পঞ্চায়েতে এসে প্রধান নির্মল করের পূর্ণ সমর্থনে নতুন করে শুরু হয় ‘সুক্তি’ প্রকল্প। ইরিগেশন দফতরের দেওয়া জমিতে প্রায় তিন একর এলাকাজুড়ে এই প্রকল্প গড়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে কাজ শুরু হয়। বর্তমানে এখানে মহিলা ও পুরুষ মিলিয়ে ১৪ জন কাজ করছেন। আগামী মার্চ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ রূপে চালু হবে বলেই আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। তখন প্রায় ১০০ জনের কর্মসংস্থান হবে, যাঁদের ন্যূনতম বেতন ধরা হয়েছে ১২ হাজার টাকা।
এখানে সংগৃহীত বর্জ্যকে মূলত দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়, পচনশীল ও অপচনশীল। পচনশীল বর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে দু’ধরনের উন্নত মানের জৈব সার- একটি মাঠের চাষের জন্য, অন্যটি ছাদবাগান ও টবের গাছের জন্য। অপরদিকে, অপচনশীল বর্জ্যকে প্রায় ৮৪টি আলাদা ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক, ওষুধের প্যাকেট, ল্যামিনেশন পেপার, বোতল, ব্যাগ, এমনকি চামড়ার জুতোর উপকরণও।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল, এখানকার তৈরি প্লাস্টিকের ব্লক ইট। প্লাস্টিক ডাস্ট, বালি, চুন ও রং ব্যবহার করে তৈরি এই ইট সাধারণ ইটের তুলনায় চার গুণ বেশি শক্তিশালী। হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেও এই ইট ভাঙা যায় না এবং আগুনেও পোড়ে না। আপাতত রাস্তা নির্মাণে এই ইট ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও ফেলে দেওয়া ওষুধের প্যাকেট থেকে অ্যালুমিনিয়াম আলাদা করা, হ্যান্ডমেড পেপার তৈরি এবং ভবিষ্যতে পরিবেশ দূষণহীন পদ্ধতিতে ডিজেল ও বিভিন্ন ধরনের গ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর সাফল্যের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যদি এমন আরও প্রকল্প গড়ে ওঠে, তবে নির্মল বাংলার পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও নতুন দিশা দেখাবে বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের।





