জানা গিয়েছে, গৌতম দেবনাথ পেশায় জাহাজের ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মী। গত ডিসেম্বর মাসে একটি পণ্যবাহী জাহাজে কাজের উদ্দেশে বিদেশে পাড়ি দেন তিনি। নিয়মিত কাজের সূত্রে বিভিন্ন বন্দরে যাতায়াত করছিলেন। প্রায় ৪০ দিন আগে শ্রীলঙ্কা থেকে তাঁদের জাহাজ নতুন গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয়। পরে জাহাজটি গিয়ে পৌঁছায় ইরানের আব্বাস বন্দরে। সেখানেই বিভিন্ন কারণে জাহাজটি আটকে পড়ে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে আটকে থাকার ফলে জাহাজে থাকা নাবিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে।
advertisement
আরও পড়ুনঃ কেন ভারতের পাইপ গ্যাস নেটওয়ার্ক যুদ্ধকালীন সময়ে রান্নাঘরের বাজিমাত করছে?
সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে গৌতম জানিয়েছেন, আগের দিনই তাঁদের জাহাজের পিছনে থাকা একটি জাহাজ মিসাইলের আঘাতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। সেই ঘটনার পর থেকে জাহাজে থাকা সকলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এদিকে ওই এলাকায় নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে পরিবারের সঙ্গে ঠিকমত যোগাযোগও করতে পারছেন না তিনি। ফলে গৌতম ঠিক কী পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে। গৌতমের স্ত্রী সঙ্গীতা দেবনাথ জানিয়েছেন, প্রায় চল্লিশ দিন ধরে ওঁরা আব্বাস বন্দরে জাহাজের মধ্যে আটকে আছেন। ঠিক মতো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নেটওয়ার্ক খুবই খারাপ। অনেক সময় ফোনই পাওয়া যায় না। ওরা ঠিক কী পরিস্থিতিতে আছে, সেটাও সব সময় জানা যাচ্ছে না।
স্বামীর নিরাপদে দেশে ফেরার জন্য রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন গৌতমের পরিবার। তাঁদের আশা, সরকারের হস্তক্ষেপে দ্রুত দেশে ফিরতে পারবেন তিনি। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে বকচারা গ্রামেও। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রম করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন গৌতম। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই বিদেশে কাজ করতে গিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তাঁর এই বিপদের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।






