ভোট ঘোষণার পরে গত রবিবার পশ্চিমবঙ্গে প্রথম জনসভা করেন নরেন্দ্র মোদি৷ কোচবিহারের সভা থেকে তাঁর মূল আক্রমণ ছিল মালদহের মোথাবাড়ির ঘটনার উপরে৷ বলেছিলেন, ‘‘মালদহে যা হল, নির্মম সরকারের মহাজঙ্গলরাজের নিদর্শন। গোটা দেশ দেখেছে কীভাবে বিচারকদের হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির শবযাত্রা বেরিয়েছে এই তৃণমূলের আমলে।” প্রশ্ন তুলেছিলেন, সরকার যদি বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে আমজনতার কী হবে৷
advertisement
সোমবার শান্তিপুরের প্রচারমঞ্চ থেকে মোদির সেই আক্রমণেরই উত্তর দেন মমতা৷ বলেন, ‘‘কালকে উনি এলেন কোচবিহারে। মোথাবাড়ির ঘটনা উল্লেখ করলেন। আর যে প্রথম ধরল তাকে, দিল্লির পুলিশ নয়, আমাদের সিআইডি, তাকে আপনি তামিলনাড়ুতে পাঠিয়ে দিলেন। কারণ,সে পাছে বিজেপির লোক ধরা পড়ে। করিয়েছিলেন হায়দরাবাদ থেকে লোক নিয়ে এসে।’’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার তথা আইপিএস সুপ্রতিম সরকারকে তামিলনাড়ুর ৫ বিধানসভা কেন্দ্রের অবজার্ভার পবদে বদলি করেছে কমিশন৷ যা ঘিরে টানাপড়েন চলছে বর্তমানে৷ এর আগেও মমতা উল্লেখ করেছেন, ভোট ঘোষণার পরে আদর্শ আচরণবিধি চালু হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব, পুলিশ, প্রশাসন সমস্ত কিছুই কমিশনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়৷ ভোট ঘোষণার পরে রাজ্যের মুখ্য সচিব, ডিজিপি সহ বহু উচ্চ পদস্থ আধিকারিক ও পুলিশকর্তার বদলি করা হয়েছে কমিশনের তরফে৷ বর্তমানে যাঁরা দায়িত্ব প্রাপ্ত রয়েছেন, তাঁরা কেউ মুখ্যমন্ত্রীকে কোনও কথা জানায় না বলে দাবি করেছিলেন মমতা নিজেই৷
এদিন শান্তিপুরের সভা থেকে ফের বহিরাগত তত্ত্ব তুলে ধরেন মমতা৷ বলেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশ থেকে ২০০ গাড়ি সিআরপিএফ আসছে অযোধ্যা দিয়ে। দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে লোক আনছে। সেখানকার ভোটারদের বাসে করে নিয়ে আসছে। বর্ডারগুলো খুলে দিয়েছে, যাতে আমরা ধরতে না-পারি। এই বিজেপিকে ভোট দেবেন? আপনার খাবার কাড়বে। আপনার পোশাক কাড়বে। আপনার ভোটাধিকার কাড়বে। ওরা একা থাকবে নিজেদের মতো ধর্ম তৈরি করে।’’
সবশেষে মমতার কথা, ‘‘এরা প্ল্যান করেছে, সকাল থেকে ছড়িয়ে দেবে ‘বিজেপি জিতছে, বিজেপি জিতছে’। আসলে নিজেদের জায়গাগুলোয় আগে কাউন্ট করবে। কিচ্ছু ভাববেন না। আমি মানুষের চোখমুখ যদি বুঝে থাকি, এ বার আরও বেশি সিট পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করবে। এটা মানুষের বাঁচার প্রশ্ন। বাংলায় থাকার প্রশ্ন। সন্তান-সন্ততির প্রশ্ন।’’
